চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির মতবিনিময় সভা

‘নদীকে বাঁচাতে হলে সরকারের উদ্যোগ দরকার’

আপলোড তারিখঃ 2026-07-05 ইং
চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির মতবিনিময় সভা ছবির ক্যাপশন:

'কথা হলো একটাই, মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাতে চাই' এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় জেলা সাহিত্য পরিষদের অ্যাসোসিয়েশন হলরুমে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করে মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন সংগঠন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি। সভায় মাথাভাঙ্গা নদীর বর্তমান ও অতীত এবং নদীটিকে বাঁচাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্বাগত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব হেমন্ত কুমার সিংহ রায়।


সভায় বক্তব্য দেনÑচুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির সভাপতি শরীফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও পরিবেশবাদী সংগঠন--বাপা জেলা শাখার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক মফিজ জোয়ার্দ্দার, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ওমর, জাতীয় গণফ্রন্ট দলের জেলা সমন্বয়ক লিটু বিশ্বাস, স্থানীয় দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আল-আমীন, সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতহার তাজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মারুফ সরোয়ার বাবু, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মানিক রুগা, কবি রিগ্যান ইস্কান্দার প্রমুখ।
নদীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উপস্থাপন করেন পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা চুয়াডাঙ্গার নেটওয়ার্ক সদস্য কাজল মাহমুদ। এসময় সার্বিক দিকনির্দেশনায় ছিলেন বেলা সংগঠনের সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল। এরপর সভায় মাথাভাঙ্গা নদীর নাব্যতা সংকট দূরীকরণ, দখল-দূষণ রোধ, মাথাভাঙ্গার শাখা নদীসমূহের উৎসমুখসমূহের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণসহ অবাধ পানিপ্রবাহের গতিধারা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়Ñসে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহ আলম সনির সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা বলেন, মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচলে চুয়াডাঙ্গা বাঁচবে। একসময় মাথাভাঙ্গা নদীর পানি ভরাট হয়ে থাকতো। একসময় নদীর প্রাণ ছিল। কিন্তু এখন নদীর আগের সেই প্রাণ নেই। নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করলে নদী ধীরে ধীরে তার প্রাণ ফিরে পাবে। নদী বাঁচাও আন্দোলনের দুটি ধারা। নদীকে বাঁচাতে হলে সরকারের উদ্যোগ দরকার। আজকে নদীতে গরু ও ছাগলের মরাসহ পৌরসভার বিভিন্ন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে নদী দূষণ হচ্ছে। এতে নদীর মাছ ধ্বংস করছে কারেন্ট জালে। নদী বাঁচাতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সবার সহযোগিতায় নদীর সৌন্দর্য গড়ে তুলতে হবে।


নদী বাঁচানোর জন্য তরুণ প্রজন্মকে দরকার। তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে নদীটি বাঁচানো যাবে। নদী প্রকৃতির সৌন্দর্য। তাই নদীকে বাঁচাতে হবে। মাথাভাঙ্গা নদী প্রকৃতির প্রাণ। তাই আসুন নদীটিকে বাঁচাই। আমরা নিজে পরিষ্কার হলে নদী পরিষ্কার হবে। নদীর তীরে ডাস্টবিন অপসারণ করা দরকার। নদীর তীরের বাসিন্দাদের নদী সংরক্ষণে কাজ করতে হবে। বাড়ির নোংরা নদীতে ফেলা যাবে না। মাথাভাঙ্গা নদী প্রবাহমান। তাই নদীকে এখনো বাঁচানো সম্ভব। আমরা মানুষ প্রকৃতির সাথে বাঁচতে চাই। নদীর যে বৈচিত্র্য ছিল, সেটি ফিরিয়ে নদীটিকে আগের রূপে নিয়ে আসতে হবে। নদীটিকে খনন করতে হবে। খনন করার পর নদীর পানির প্রবাহ ঠিক করতে হবে। নদীটিকে দখল-দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। নদীটি শুধু আমার একার না, এই নদীটি জেলাবাসীর। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নদীটি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।


এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেনÑসংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পলাশ কুমার সাহা, কামরুজ্জামান সেলিম, জিসান আহমেদ, শামসুজ্জোহা রানা, শেখ লিটন প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য নাজমুল হক স্বপন। জেলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সভায় অংশ নিয়েছিলেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)