ছবির ক্যাপশন:
অনলাইনে সিসার মতো ভয়ংকর মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যমজ ভাইসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৬৬ কেজি সিসা ও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম। জন্দ হওয়া সরঞ্জাম দিয়ে সিসা সেবনে ব্যবহৃত হতা। শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে আয়ােজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির গােয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মােহাম্মদ বদরুদ্দীন।
দুই ভাইয়ের জন্ম বাংলাদেশে। ইরানে তারা নিয়মিত যাতায়াত করত।
ইরানে অবস্থানকালে দুই ভাই সিসা ব্যবসার কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থা এবং
সরবরাহের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেয়। বাংলাদেশে ফিরে তারা অনলাইন-ভিত্তিক
সিসা বিত্রির নেটওয়ার্কে গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন জেলায় কার্যক্রম
বিস্তৃত করে। মানুষের জীবন কখনো নিরাপদ নয়। নাগরিক জীবনকে অনিরাপদ ও অসুস্থ
করার জন্য যতগুলো হাতিয়ার রয়েছে, এর মধ্যে মাদক হচ্ছে সবচেয়ে বেশি
বিপজ্জনক। এসব অপহাতিয়ার থেকে নাগরিক জীবনকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখা রাষ্ট্রের
মূল দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিপন্ন হয়েছেন অনেক রাষ্ট্র বা
সরকার প্রধান। আবার অনেকেই এই দায়িত্ব পালন করে হয়েছেন পুরস্কৃত। রাষ্ট্র ও
নাগরিক জীবনকে করেছেন গৌরবান্বিত।
হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, নারী
নির্যাতন, কিশাের গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গ মাদকের প্রত্যক্ষ বা
পরােক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। মাদক ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে ওঠে অস্ত্র, চোরাচালান ও
মানব পাচারের মতো অপরাধ চক্রও। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোার অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মাদক-বিরােধী অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলােকে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশব্যাপী অভিযান
পরিচালনা করছে। মাদকের বিস্তার কেবল জনস্বাস্থ্য নয়, সামাজিক নিরাপত্তার
জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। শিশু-কিশাের থেকে শুরু করে তরুণ ও কর্মজীবী
জনগােষ্ঠীর একটি অংশ মাদকের সংস্পর্শে আসছে।
এর ফলে পরিবার, সমাজ এবং
অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবপড়ছে। মাদকের বিস্তার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
কারণ এটি তরুণ সমাজকে ধবংস করার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্যলা ভেঙে
ফেলে। এর আগ্রাসন রুখতে কঠোর আইন প্রয়ােগ, পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং
মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রয়ােজন। মাদক নির্মূলে কিছু কার্যকরী
পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক চোরাচালান ও ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করতে মাদক
দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের
আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
স্কুল-কলজ ও ইউনিভার্সিটিতে মাদক-বিরােধী
প্রচারণা বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই এর কুফল
সম্পর্কে সতর্ক থাকে। সন্তানদের আচরণে পরিবর্তন আসছে কি না সেদিকে
বাবা-মাকে কড়া নজর রাখতে হবেব এবং তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা বাড়াতে হবে।
মাদকাসক্ত একটি রাগ, তাই আসক্তদের অপরাধী হিসেবে না দেখে তাদের সুস্থ করে
তুলতে নিরাময় কন্দ্রগুলাের সেবা আরো সহজলভ্য ও উন্নত করতে হবে।
