ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গায় নিমগ্ন পাঠাগারে ‘আল মুজাহিদী : জীবন ও সাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কবি কাজল আহমেদের সঞ্চালনায় ইসমাঈল শিপনের কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে আল মুজাহিদীর সাহিত্যের উপর মূল্যায়ন পেশ করেন নাদিউজ্জামান রিজভী। অনুষ্ঠানে আল মুজাহিদীর কবিতা পাঠ করেন মো. ইফতেখার হোসাইন মাহের, সোহেল রানা, আবু বকর সিদ্দিক, বেলায়েত হোসেন বিপু ও ইসমাইল শিপন।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি রাশেদ কিরণ এবং নজরুল সঙ্গীত পেশ করেন মো. ইফতেখার হোসাইন মাহের। অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন খাইরুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ ও চিন্তাচক্রের পরিচালক আবু বকর সিদ্দক। অনুষ্ঠানে আল মুজাহিদীর কবিতা ও কবিতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন নিমগ্ন পাঠাগারের সভাপতি ইমদাদুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. মাহফুজুর রহমান, আজমাঈন আদিল, মো. সালাউদ্দিন, আন নাফি ও আয়েশা মেহজাবিন।
কবি আল মুজাহিদীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি, টাঙ্গাইলে। তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশিকাল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রীয় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর কুড়িটির অধিক কাব্যগ্রন্থসহ প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তিনি কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, ছোটগল্প, শিশুতোষ গ্রন্থও রচনা করেছেন।
কবি আল মুজাহিদী বাংলা কাব্যসাহিত্যে প্রাচীন গ্রিক জীবনদর্শন, ইতিহাসচেতনা এবং মাটির গভীর মমত্ববোধকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। তিনি শুধু মাটির গভীর অনুরাগীই নন, বরং বাংলা সাহিত্যে একজন অন্যতম প্রধান কাল ও সমাজসচেতন বিশ্ববীক্ষণের কবি। তিনি তার সুদীর্ঘ কাব্যযাত্রায় সময়, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বিশ্বরাজনীতির সমকালীন প্রেক্ষাপটকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কবিতায় ধারণ করেছেন। আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন কিডনি ও হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন কারণে অসুস্থ ছিলেন।দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৬ সালের ১৯ জুন রাজধানী ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
