ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আইসিটি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মাহমুদের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার ও একটি সামাজিক সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদের বাবা আতাউর রহমান, মা হাসিনারা নার্গিস, বোন মেহেনাজ আক্তার মিতুসহ মানবতা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার অহিদুল আলম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৯ জুন সকালে জীবননগর উপজেলার আশতলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মাহমুদুর রহমান মাহমুদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা আতাউর রহমান বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাহমুদের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি, তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম, শাশুড়ি জাহানারা খাতুন ও দুলাভাই নাহিদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ১৯ জুন মাহমুদুর রহমানের মরদেহ পুলিশ থানায় নিয়ে গেলেও ভিকটিমের ফ্ল্যাটটি পুলিশ হেফাজতে নেয়নি এবং মৃত্যুর বিষয়টি তার পিতা-মাতাকে জানায়নি। ফলে আসামিরা ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মৃত মাহমুদুর রহমান ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতির মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ চলত। অভিযোগ করা হয়, ইতি মাহমুদকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে দেখা করতে দিতে চাইতেন না। এছাড়া ইতির বড় ভাই, মা ও দুলাভাই মাঝেমধ্যেই জীবননগরের ভাড়া বাসায় আসতেন এবং ইতির কথা শুনে মাহমুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ঘটনার দিন সকল আসামি ভিকটিমের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করেন এবং তাকে ‘গলায় দড়ি দিয়ে মরতে পারিস না’ মর্মে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেন। পরে তাদের অবস্থান করা পাশের কক্ষ থেকে সকাল ৯টার দিকে ভিকটিমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ইতি ও মাহমুদের চার বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে এবং ইতি বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জীবননগরের ভাড়া বাসার প্রতিবেশী, সহকর্মী ও বন্ধুদের মাধ্যমে ভিকটিমের পিতা-মাতা জানতে পেরেছেন যে, ইতির গর্ভের সন্তানের বিষয়ে পরপুরুষ জড়িত থাকতে পারে, এমন সন্দেহ রয়েছে। মাহমুদ তার নিকটবর্তী সহকর্মীদের কাছেও এ ধরনের আশঙ্কার কথা বলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, উল্লেখিত আসামিদের পাশাপাশি সন্দেহভাজন কথিত পরপুরুষের সহায়তায় মাহমুদকে হত্যা করে পরবর্তীতে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মানবতা ফাউন্ডেশনের সভাপতি রউফুন নাহার রিনা, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সহসভাপতি রফিক রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
