কুখ্যাত হুন্ডি কাজল ভারতে মারা গেছেন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইতিহাসে বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারির হোতা

আপলোড তারিখঃ 2026-06-26 ইং
কুখ্যাত হুন্ডি কাজল ভারতে মারা গেছেন ছবির ক্যাপশন:

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষকে নিঃস্ব করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের হোতা, কুখ্যাত ‘হুন্ডি কাজল’ আর নেই। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার চাকদহ থানা শহরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের একটি স্থানীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। হুন্ডি কাজলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটচাঁদপুর শহরে বসবাসকারী তার ছোট ভাই কবি চঞ্চল শাহরিয়ার।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি ছিল ফারুক আহমেদ কাজলের। তবে ১৯৯৫ সালে তিনি জড়িয়ে পড়েন অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়। অতি অল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি গড়ে তোলেন এক বিশাল হুন্ডি সাম্রাজ্য। তৎকালীন সময়ে তার এই লোভনীয় ফাঁদে পড়ে ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর লাখ লাখ মানুষ।


সাধারণ কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বহু মানুষ জমিজমা ও সম্বল বিক্রি করে কাজলের হুন্ডি ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা লগ্নি করে নিঃস্ব হন। টাকার শোকে অনেকে আত্মহত্যা করেন। হুন্ডি সাম্রাজ্যের পতনে শুরু হয় দক্ষিণাঞ্চলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা। লগ্নি করা সেই টাকা নিয়ে ১৯৯৬-৯৭ সালের দিকে হঠাৎ করেই গা-ঢাকা দেন কাজল। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা লোপাট করে কোটিপতি বনে যান কাজল ও তার সহযোগীরা। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ হারিয়ে রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়ে লাখো পরিবার। টাকা হারিয়ে বহু মানুষ স্ট্রোক করে মারা যান, আবার লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক খুনের ঘটনাও ঘটে।


পরিস্থিতি সামাল ও ক্ষতিগ্রস্ত লগ্নিকারীদের সান্ত্বনা দিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নিজে কোটচাঁদপুরে ছুটে আসেন। তিনি ভুক্তভোগীদের টাকা উদ্ধারের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই টাকা আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। টাকা লোপাটের পর কাজলের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুরসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও আদালত থেকে জামিন পেয়ে অত্যন্ত গোপনে স্ত্রী-সন্তানদের দেশে ফেলে রেখে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান কাজল।


ভারতে থাকা অবস্থায় তিনি আবারও বিয়ে করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে এই দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তার পারিবারিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলেও কথিত রয়েছে। এ বিষয়ে হুন্ডি কাজলের ছোট ভাই চঞ্চল শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, তার ভাই কাজলের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘকাল ধরে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি সত্য। তিনি ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।


এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পর কাজলের প্রথম স্ত্রী শামিমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি কোটচাঁদপুরের সলেমান গ্রামে আছেন। কোটচাঁদপুর থানার ওসি আনসারুল ইসলাম জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুন্ডি কাজলের মৃত্যুর খবরটি আমরা জেনেছি। দেশের আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বর্তমানেও তার নামে ৫টি ওয়ারেন্ট (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) ঝুলছিল।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)