ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় পৌরসভা মিলনায়তনে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও রেজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (জটঞউচ)-এর উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারমিন আক্তার বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও প্রকল্পের ওপর উপস্থাপনা করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও উক্ত কর্মশালার ভারপ্রাপ্ত টিম লিডার আহসান ইমাম। ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় জানানো হয়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯০১ কোটি ২২ লাখ টাকা (প্রায় ৫৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা প্রায় ১৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।
তিনি জানান, নির্বাচিত ক্লাস্টারভুক্ত পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোর জলবায়ু সহনশীল নগর অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত শহরাঞ্চলের প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ এবং সংলগ্ন নগর-গ্রামীণ এলাকার আরও প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উপকারভোগীদের প্রায় অর্ধেকই নারী।
কর্মশালায় পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ঞখঈঈ) সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা পৌর এলাকার বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনাকে আরও ফলপ্রসূ করতে অংশগ্রহণকারীদের চারটি দলে বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি দল লিখিতভাবে তাদের প্রস্তাবনা ও সুপারিশ উপস্থাপন করে। এতে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পাবলিক টয়লেট, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
এসময় কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মাহমুদা খাতুন, পরামর্শক নগর পরিকল্পনাবিদ তামান্না সালাম, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ হাসিবুল হক, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ তারিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ, পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং টিএলসিসির সদস্যরা।
