ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা পৌর শহরে একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। রাতের আঁধারে দোকান ও বসতবাড়িতে হানা দিয়ে নগদ টাকা, সোনাদানা ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পৌরবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অন্তত তিন থেকে চারটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা কখনও দোকানের শাটারের তালা ভেঙে, কখনও টিন বা গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত করছে। একই ধরনের কৌশলে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটায় এর পেছনে সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ গত শনিবার দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন-সংলগ্ন বন্ডবিল ফটকের মুখে রাজনের দোকানে চুরি হয়। দোকান মালিকের দাবি, দুর্বৃত্তরা দোকান থেকে দামি মোবাইল ফোন, ফ্লেক্সিলোডের নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এতে তার প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগের রাত অর্থাৎ গত শুক্রবার স্টেশন এলাকায় একসঙ্গে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুদি ব্যবসায়ী উল্লাস উদ্দিনের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। একই রাতে পাশের আরও দুটি দোকানেও চোরের হানা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গত ১৭ জুন রাতে লোডশেডিংয়ের সুযোগে উপজেলার এরশাদপুর এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা ওয়ারড্রব ভেঙে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকাসক্ত ও অসাধু কিছু যুবককে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র গড়ে উঠেছে। তারা পুলিশের নৈশ টহলের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধ সংঘটিত করছে। নিয়মিত ও কার্যকর টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হলে চুরির ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা জাসাসের সভাপতি আনোয়ার রশিদ সাগর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরে সংঘটিত ধারাবাহিক চুরির ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, ‘চুরির ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পৌর শহরে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
