মহেশপুর সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি ও গ্রামবাসীর

যৌথ পাহারায় কাটছে নির্ঘুম রাত

আপলোড তারিখঃ 2026-06-12 ইং
মহেশপুর সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি ও গ্রামবাসীর ছবির ক্যাপশন:

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর নির্ঘুম রাত কাটছে। মাতৃভূমির সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির সমান্তরালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নেমেছেন গ্রামের শত শত মানুষ। রাইফেল আর টর্চলাইটের যৌথ প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত এই ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি।


মহেশপুর ৫৮ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট ১২টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে। এর মধ্যে ভৌগোলিক কারণেই যাদবপুর, সামন্তা, মাটিলা ও বাঘাডাঙ্গাসহ অন্তত পাঁচটি বিওপি এলাকা পুশ-ইনের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পুরো মহেশপুর জুড়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ ৭৮ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। এর বড় একটি অংশে (৬৮ কিলোমিটার) ভারতের কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও যাদবপুর ও মাটিলা বিওপি সংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ বেড়াহীন ও অরক্ষিত। মূলত এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই বিএসএফ রাতের আঁধারে বাংলাদেশে মানুষ পুশ-ইন করার ছক কষছে, যা রুখতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়েছে বিজিবি।


স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবাইদুল ইসলাম জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের ওপারের বাতি নিভিয়ে দিয়ে অতর্কিত পুশ-ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। বিএসএফের নড়াচড়া টের পেলেই সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলোর মসজিদে মাইকিং, টর্চলাইটের তীব্র আলো নিক্ষেপ এবং গ্রামবাসীদের সমবেত শোরগোলে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে ভারতীয় বাহিনী।


সীমান্তবর্তী পিপুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে জানান, বিএসএফ সুযোগ পেলেই কাঁটাতারের গেট খুলে অবৈধভাবে লোক ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। তবে গ্রামবাসীরা জেগে থাকায় তারা সফল হতে পারছে না।


গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম জানান, ‘গত এক সপ্তাহে কাঁটাতারের ওপারে বিএসএফের বিশেষ সড়কে বড় বড় কিছু গাড়ির আনাগোনা দেখা গেছে, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ধরে এনে বর্ডারের গেট দিয়ে এপারে ঠেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। কিন্তু বিজিবি ও সীমান্তের জনগণের শক্ত প্রতিরোধের মুখে গত কয়েকদিনে অন্তত পাঁচটি বড় পুশ-ইনের চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।’


পরিস্থিতি নিয়ে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্নেল মো. রফিকুল আলম অত্যন্ত দৃঢ়তা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে ওপার থেকে কিছু অপচেষ্টার খবর আমরা পেয়েছি। বিজিবি সদস্যরা বর্ডারে ২৪ ঘণ্টা হাই-অ্যালার্টে রয়েছে এবং আমাদের সব ধরনের সক্ষমতা ও রিসোর্সকে এখানে নিয়োজিত করা হয়েছে।’


তিনি আরও যোগ করেন, সবচেয়ে আশার কথা হলো, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাধারণ মানুষ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা আমাদের জোয়ানদের সাথে রাত জেগে টহল দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, দেশের এক ইঞ্চি জমিও আমরা অসুরক্ষিত রাখব না।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)