ছবির ক্যাপশন:
দেশব্যাপী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
সভায় জানানো হয়, আগামী ১৩ জুন কক্সবাজার থেকে জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পর দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কর্মসূচির আওতায় বনজ, ফলজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ রোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, জেলা পরিষদের কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৫০০টি গাছ রোপণের পরিকল্পনা থাকলেও ইতোমধ্যে ৩ হাজার গাছের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মসূচির উদ্বোধনের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বৃক্ষরোপণ করতে আগ্রহী, তারা জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিনামূল্যে গাছ বিতরণের জন্য একটি আবেদন ফরম প্রস্তুত করা হয়েছে। আবেদনকারীরা ফরম পূরণ করে জেলা পরিষদে জমা দিলে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী গাছ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। শরীফুজ্জামান শরীফ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাদের গাছ প্রয়োজন, তাদের বিনামূল্যে চারা সরবরাহ করতে হবে। এসব চারার মূল্য তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পরিশোধ করবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে রোপিত গাছগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধনের পর জেলার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে নিমগাছের গুরুত্ব তুলে ধরে অধিক পরিমাণে নিমগাছ রোপণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পেয়ারা, তেঁতুল, আতা, জলপাই, আমলকিসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রোপিত গাছের অবস্থা নিয়মিতভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আরা খাতুন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও জানানো হয়, আগামীকাল ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে উপভোগ করা হবে। উদ্বোধন শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ প্রাঙ্গণে একই দিনে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
