ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের কুমোরপাড়ায় অবস্থিত পালবাড়ির ঐতিহ্যবাহী হরি মন্দিরটি দীর্ঘ ৫০ বছরেও কোনো সংস্কার হয়নি। কালের আবর্তে জরাজীর্ণ এই শতবর্ষী উপাসনালয় আজ ধ্বংসের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ বছরেও মন্দিরটিতে কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি। ফলে কালের আবর্তে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে এই শতবর্ষী পুরনো ধর্মীয় স্থাপনাটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরনো কাঁদামাটির গাঁথুনিতে তৈরি মন্দিরের দেওয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। জায়গায় জায়গায় ইট খসে পড়ছে, পলেস্তারা উঠে ভেতরের কাঠামো বেরিয়ে এসেছে। উপরে চালের টিনও এখন মরচে ধরে জীর্ণ। বর্ষায় ভেতরে পানি পড়ে, ক্ষয়-ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুকুমার কুমার পাল বলেন, ‘পূর্বপুরুষের আমল থেকে এই মন্দির। নিজেরা যতটুকু পারি দেখভাল করি। কিন্তু এখন বড় সংস্কার না হলে মন্দির টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।’
কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘প্রতি বছরই শুনি বরাদ্দ আসবে, কাজ হবে। ৫০ বছর কেটে গেল, চোখে পড়ার মতো কিছুই হলো না। বরাদ্দ এসে থাকলে সেই টাকা গেল কোথায়, সেই হিসাব মানুষের সামনে আসা দরকার।’
স্থানীয় বাসিন্দা কাছেদ আলী বলেন, ‘বহুবার শুনেছি সরকারি বরাদ্দ এসেছে। তবু বছরের পর বছর চলে গেলেও মন্দিরে কোনো কাজ দেখলাম না। টাকা কোথায় যায় এলাকার মানুষ বোঝে, শুধু মুখ খুলতে পারে না। কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে দেখা।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড মেম্বারদের মাধ্যমেই সাধারণত এ ধরনের বরাদ্দের কাগজপত্র পরিচালিত হয়। বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রশ্ন রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবঞ্চিত এই মন্দিরটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর এখানে বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে মন্দিরটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় স্থাপনাটি রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান এবং সংস্কারকাজ শুরু করার জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
