ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বসতবাড়ি ও মূল্যবান জমি দখলের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন এক নারী। স্বামী কর্তৃক রেজিস্ট্রি করে দেওয়া বাড়ি ও জমি থেকে উচ্ছেদের কারণে সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন আকলিমা খাতুন আখি। সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আখি শাহাপুর গ্রামের নিধিকুন্ড মৌজার ৬৩ নম্বর আরএস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ৪ শতক ৮৬ পয়েন্ট জমি ও বসতবাড়িতে বৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন। যার ৫শত ৫ আরএস খারিজ খতিয়ান নম্বর। ৫২১ নম্বর দাগে ০.০৪৮৬ একর জমি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তার স্বামী ওমর ফারুক দলিল নং-১৪৪৯ হেবা মূল্যে সম্পত্তিটি তার স্ত্রী আখির নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর থেকে তিনি সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
তবে সম্প্রতি বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নার্সারি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক খান তার ৫০/৬০ সহযোগীদের নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক জমিসহ বাড়ি দখল নেন। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ঘরে থাকা প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী আখি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। এদিকে সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতা এবং সম্পত্তি দখলের অভিযোগ—সব মিলিয়ে শাহাপুরের এই ঘটনাটি এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে বিরোধের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে—এমনটিই মনে করেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী আকলিমা খাতুন আখি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আমার নামে জমি। আমার স্বামী ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। বৈধ কাগজপত্র দলিল সবই আমার কাছে আছে। তবুও আমি এখন নিজের বাড়িতে যেতে পারছি না। স্থানীয় নার্সারি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক খান আমার বাড়িতে ৫০/৬০ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র লাঠি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক জমিসহ বাড়ি দখল নেন। এ সময় আমার ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল বাইরে ফেলে দেয় এবং আমার ঘরে থাকা ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সন্তানদের নিয়ে আমি আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমার মেয়েদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বাড়িতে ফিরতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি একজন অসহায় মা। প্রশাসনের কাছে আমার আকুতি—আমার বৈধ সম্পত্তি আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নার্সারি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক খান। তিনি বলেন, এটি মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধ। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। আমি কোনো জোরপূর্বক জমি দখল, লুটপাট বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত নই। আমি জমি কিনেছি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান সেখ বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
