ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গার আসাননগর গ্রামের শহিদুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ব্যক্তি। হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় চরম সংকটে পড়েছে পুরো পরিবার। চিকিৎসার ব্যয় বহন তো দূরের কথা, প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার এই দুর্দিনে সবচেয়ে বেশি কষ্টে দিন কাটছে স্ত্রী, ১০ বছরের ছেলে ও ৩ বছর বয়সের কন্যা সন্তানদের। অভাব-অনটনের এই সংসারে মাথা গোঁজার জন্য রয়েছে একটি ছোট্ট চালাঘর। কিন্তু অর্থের অভাবে ঘরটিতে কোনো বেড়া বা নিরাপদ দেয়াল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরিবারটিকে প্রতিদিনই অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে। রাত নামলেই শিয়াল-কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায় ঘরের ভেতরে। বাবা কথা বলতে না পারায় মায়ের অনুপস্থিতিতে অসহায় বাবার শয্যার পাশে পাহারায় থাকে মাত্র ৩ বছরের কন্যা সন্তান। পাশে থাকে ১০ বছরের ছেলেটিও। যে বয়সে তাদের খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে সময় কাটানোর কথা, সেই বয়সেই তারা বাবার অসুস্থতা, অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। জীবনের নির্মমতা যেন ছোট্ট দুটি শিশুর কাঁধে আগেভাগেই দায়িত্বের ভার চাপিয়ে দিয়েছে।
শহিদুলের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিল আমাদের সংসারের একমাত্র ভরসা। হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার পর থেকে আমাদের জীবনে যেন অন্ধকার নেমে এসেছে। স্বামীর ওষুধ কিনব, নাকি সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেব, সেই চিন্তায় দিন কাটে। আমার ১০ বছরের ছেলে, আর ৩ বছরের মেয়েটা বাবার এই অবস্থা দেখে সারাক্ষণ কাঁদে। ছোট মেয়েটা কিছু না বুঝলেও বাবার শয্যার পাশে বসে থাকে। রাত হলে আরও বেশি ভয় লাগে। ঘরের চারপাশে কোনো নিরাপদ বেড়া নেই।’
স্থানীয়দের মতে, শহিদুলের চিকিৎসা এবং পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা এখন জরুরি। আর্থিক ও মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি আবারও নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
