ছবির ক্যাপশন:
পবিত্র ঈদুল আযহার দীর্ঘ ছুটির আমেজে যখন গোটা দেশ উৎসবমুখর, ঠিক তখনও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ কর্মতৎপর ও প্রাণবন্ত ছিল ঝিনাইদহ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ঈদের আনন্দকে একপাশে রেখে কেন্দ্রের চিকিৎসক, পরিদর্শিকা ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দিন-রাত সার্বক্ষণিক সেবার মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার (সিজার) ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক উপায়ে (নরমাল ডেলিভারি) ৬ জন নারীর সন্তান প্রসব করিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কেন্দ্রটি।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, উৎসবের দিনগুলোতেও এখানে সেবা নিতে আসা গর্ভবতী মায়েরা পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্ন ও আন্তরিক চিকিৎসা। কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. মাহবুবা আখতার তাবীয়া এবং মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. সাদমান ফাহিমের তত্ত্বাবধানে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকাগণ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই ছয়জন গর্ভবতী মায়ের নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে মা ও নবজাতকরা সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
জরুরি প্রসব সেবা ছাড়াও ঈদের দিনগুলোতে কেন্দ্রে আসা মা ও শিশুদের নিয়মিত গর্ভকালীন পরিচর্যা (এএনসি), প্রসব পরবর্তী পরিচর্যা (পিএনসি), সাধারণ শিশু সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ সামগ্রী প্রদান করা হয়। শুধু সশরীরে উপস্থিত রোগীদেরই নয়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কেন্দ্রে আসতে না পারা বেশ কয়েকজন গর্ভবতী মাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই পুরো মানবিক ও দায়িত্বশীল কার্যক্রমটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নেপথ্যে থেকে সার্বিক তত্ত্বাবধান, দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছেন ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক মোজাম্মেল করিম এবং সহকারী পরিচালক। তাঁদের নিয়মিত তদারকির ফলেই ছুটির দিনেও কেন্দ্রের সেবার মান ছিল শতভাগ অটুট।
সেবা নিতে আছিয়া বেগম জানান, ঈদের ছুটির কারণে তারা হাসপাতালের সেবা পাওয়া নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রে এসে ডাক্তার ও পরিদর্শিকাদের আন্তরিকতা এবং সার্বক্ষণিক উপস্থিতি দেখে তারা অত্যন্ত আপ্লুত। কোনো প্রকার অতিরিক্ত খরচ ও শারীরিক ধকল ছাড়া স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হওয়ায় তারা কর্তব্যরত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ঝিনাইদহ মা ও শিশু কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. মাহবুবা আখতার তাবীয়া জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তারা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঈদের ছুটিতেও যেন কোনো মা বা শিশু জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পুরো কেন্দ্রকে সচল রাখা হয়েছিল এবং আগামীতেও এই মানসম্মত সেবার ধারা অব্যাহত থাকবে।
