ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন (হাঁস জাকির) তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মারধর ও নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। একই সাথে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের অবসান চেয়ে তার ভাইদের কাছে সম্পদ ও দায়-দেনা বুঝিয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক ব্যবসা ও খামার পরিচালনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তার ভাইদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার তিনি একটি লিখিত অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রেরণ করেন।
অভিযোগপত্রে জাকির হোসেন জানান, দারিদ্র্য জয় করতে ২০০২ সালে তিনি ও তার ভাইরা মিলে ‘মেসার্স জাকির অ্যান্ড ব্রাদার্স মিক্সড এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারী’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বড় ও মেজো ভাই আলাদা হয়ে গেলে ব্যবসার অধিকাংশ দায়ভার তার ও ছোট ভাইয়ের ওপর বর্তায়। তারা দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ ও অন্যান্য দায়-দেনা পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক অবস্থানে নিয়ে আসেন।
তার দাবি, পরবর্তীতে বড় ও মেজো ভাই পুনরায় ব্যবসায় যুক্ত হলেও সম্প্রতি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গত ২৪ মে প্রতিষ্ঠানে এসে মেজো ভাই ও তার দুই ছেলে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জাকির হোসেন আরও অভিযোগ করেন, তার বড় ও মেজো ভাই সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন এবং তাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৪ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, পারিবারিক সম্পর্ক অটুট রাখতে এবং আইনগতভাবে দায়মুক্ত হতে তিনি তার ভাইদের প্রাপ্য সম্পদ ও দায়-দেনা বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে, এ বিষয়ে মেজো ভাই জয়নাল আবেদিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বড় ছেলে মাহবুবের কাছে ফোন ধরিয়ে দেন। মাহবুব জানান, ‘আমার চার চাচা একসাথে ব্যবসা পরিচালনা করলেও সম্প্রতি একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে আমার সেজো চাচা জাকির আমার বাবা জয়নালসহ আমাদের পরিবারের সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এবং ব্যবসার মুনাফা আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। এখন আমরা এসব হিসাব ও সম্পদ বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলায় তিনি বিভিন্ন জায়গায় এসব মিথ্যা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।’
