ছবির ক্যাপশন:
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে আজ সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ গঠন বিষয়ে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের শুনানি গ্রহণ করবেন। শুনানি শেষ হলে এদিন অভিযোগ বিষয়ের ওপর আদেশ দিতে পারেন বিচারক। এদিকে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারের হাতে যতটুকু সময় ও ক্ষমতা রয়েছে, তা প্রয়োগ করেছে। বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট হবে। আলহামদুলিল্লাহ, এক সপ্তাহের মধ্যেই চার্জশিট দিতে পেরেছি। বাকিটা আদালতের কাজ, আদালতকে আমরা সহযোগিতা করব। রবিবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, সোমবার আদালত খুলবে, প্রথম দিনেই এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। এটা আদালতের এক্তিয়ার। আমরা শুধু আদালতের কাছে প্রার্থনা করতে পারি। আইনমন্ত্রী বলেন, বাকিটা আদালত যেটা ন্যায়বিচারের স্বার্থে মনে করবেন, সেটাই করবেন। তবে যে রকম সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে, সে বিবেচনায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন বলে মনে করি। মামলার বিচার কার্যক্রম বিরতিহীনভাবে পরিচালনার জন্য আদালতে আবেদন জানাবে রাষ্ট্রপক্ষ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজৃুর রহমান দুলু ইত্তেফাককে বলেন, আজ সোমবার মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। আমরা আমাদের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা হয়েছে মামলার শুনানি শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা চলবে। আমরা আইনের এই ধারা অনুযায়ী মামলাটির বিচার বিরতিহীনভাবে করার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করব। যাতে দ্রুত বিচার কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হয়। প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে মামলার আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে উক্ত অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেবেন মামলার বাদী রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা ও তার স্ত্রী, রামিসার বোন, রাজু নামের এক প্রতিবেশী। গত সোমবার চার্জশিট আদালতে দাখিল হলে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক। গত ১৯ মে সকালে রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
