ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা পায়রা চত্বরে হঠাৎ ঝোলানো একটি রাজনৈতিক ব্যানারকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের এই ব্যানারটি দেখতে সকাল থেকেই উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের কেন্দ্রস্থলে জনসম্মুখে ঝুলিয়ে রাখা ওই ব্যানারে লেখা রয়েছে- ‘রাখালিয়া বাঁশির সুরে, বঙ্গবন্ধু আসবে ফিরে’। ছন্দময় স্লোগান সংবলিত এই ডিজিটাল ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি যুক্ত রয়েছে। দিন-দুপুরে, শত শত মানুষের চোখের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার কীভাবে এবং কারা টাঙিয়ে দিয়ে গেল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের দানা বাঁধছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, স্থানটি অত্যন্ত জনবহুল এবং সার্বক্ষণিক লোকসমাগম থাকে। রাতের আঁধারে বা ভোরের আলো ফোটার আগে এই ব্যানারটি লটকে দিয়ে গেছে। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই মানুষ ব্যানারে কি লেখা তা পড়তে এগিয়ে আসেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ঝিনাইদহে ছাত্রদল এবং এনসিপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি এবং পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই মাঠ ছাড়া ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা এমন ঝটিকা তৎপরতা চালানোর সুযোগ পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের গ্রুপিং ও প্রশাসনিক শিথিলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতেই এই ব্যানার ঝুলানো হয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই ব্যানার টাঙানোর খবর তিনি শুনেছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে গোপনে তারা এটা করেছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার দল সতর্ক রয়েছে, যাতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই অপতৎপরতা চালাতে না পারে।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান গতকাল সোমবার বিকেলে জানান, খবর পেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যানারটি সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, কোন উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে এই ব্যানার স্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
