ছবির ক্যাপশন:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার খামারে খামারে এখন সাজ সাজ রব। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় পশুর পরিচর্যা, যা চলে গভীর রাত অবধি। শেষ মুহূর্তের বাড়তি যত্নে বড় হয়ে উঠছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। জেলার চার উপজেলার কৃষকদের ঘামঝরানো পরিশ্রমে এবার চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুত হয়েছে ২ লাখ ২ হাজারের বেশি কোরবানির পশু, যা জেলার মোট চাহিদাকে ছাড়িয়ে বড় অংকের বাণিজ্যের হাতছানি দিচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, সব ঠিক থাকলে এই এক মৌসুমেই জেলায় প্রায় ৭২৭ কোটি টাকার অর্থিক লেনদেন হতে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছর জেলায় ৪৪ হাজার ৩৯৬টি গরু (ষাঁড়, বলদ ও গাভী), ১১৬টি মহিষ, ১ লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি ছাগল এবং ২ হাজার ৫২৪টি ভেড়াসহ মোট ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৭১ হাজার ৬৬টি পশু দেশের অন্যান্য প্রান্তে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমরা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি পশু প্রস্তুত করেছি। চুয়াডাঙ্গার চাহিদা মিটিয়ে বড় একটি অংশ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাবে। এই বিশাল বাণিজ্য থেকে প্রায় ৭২৬ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেনের আশা করছি আমরা।’ তিনি আরও জানান, পশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেলায় ৮টি পশুর হাট বসবে এবং প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে যাতে কোনো অসুস্থ পশু কেনাবেচা না হয়।
খামারিদের চোখে রঙিন স্বপ্ন, তবে রয়েছে উদ্বেগ:
আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইতনপুর গ্রামের খামারি সোহানুর রহমান তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমার ১০টি গরু ও ৫টি ছাগল এবার বাজারে তোলার জন্য প্রস্তুত। তবে আমাদের একটাই দাবি- ভারত থেকে যেন কোনো গরু না আসে। চোরাই পথে গরু ঢুকলে আমরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হই।’ একই উপজেলার তাজউদ্দীন এগ্রোর মালিক সার্জেন্ট (অব.) হাজ্জাজ আলী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, ‘বাংলাদেশে বিদেশি পশুর কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের উৎপাদন এখন যথেষ্ট সমৃদ্ধ। গত তিন বছর ধরে আমি ডেইরি ও কোরবানিযোগ্য পশু নিয়ে কাজ করছি, ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক।’
সদর উপজেলার হানুরবারাদি গ্রামের খামারি রহমত আলী বলেন, ‘আমার প্রস্তুত করা চারটি ষাঁড়ের ওজন চারশ থেকে পাঁচ মণের মধ্যে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস, খৈল ও ভুসি খাইয়ে এদের বড় করেছি। এখন শুধু হাটে তোলার অপেক্ষা।’ স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শহরের বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন, ‘খামারে খামারে গিয়ে গরু দেখছি। পছন্দ হলে দ্রুতই কিনে ফেলব।’
নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা:
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে, শুধু সংখ্যাগত লক্ষ্যমাত্রা নয়, গুণগত মানেও চুয়াডাঙ্গার পশু যেন সেরা হয়, সেদিকে নজর রাখা হয়েছে। পশুর কোনো রোগব্যাধি আছে কি না, তা যাচাইয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন কর্মীরা। হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন এবং নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
