ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পায়রাডাঙ্গা থেকে সিঙ্গা অভিমুখে নবনির্মিত প্রশস্ত রাস্তাটি এখন এলাকাবাসীর কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলজিইডির প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখলেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা প্রশ্ন তুলেছে- ‘তাহলে কত টাকায় বিক্রি হয়েছে উপজেলা প্রশাসন?’
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই রাস্তার পায়রাডাঙ্গা নামক স্থানে মাটি ব্যবসায়ী শাহিন সরকারি আইন তোয়াক্কা না করেঅবৈধভাবে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি খনন করছে। মাটি কাটার ফলে রাস্তাজুড়ে কাদার স্তূপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি বিশাল বাজেটের এই রাস্তাটি এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা ছিল। কিন্তু প্রভাবশালীদের অবৈধ মাটি বাণিজ্যের ফলে রাস্তাটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গ্রামবাসীরা বারবার অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ক্ষুব্ধ এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘আমাদের চোখের সামনে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, আর প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। এতেই বোঝা যায় তাদের পকেট ভারী হয়েছে।’
রাস্তার এই বেহাল অবস্থা এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। এলাকায় খোঁজ নিয়ে দ্রুত মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন কবে ঘটবে তা নিয়ে সন্দিহান ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। এলজিইডির ৮৬ কোটি টাকার এই বিশাল প্রজেক্ট রক্ষায় প্রশাসন অবিলম্বে অ্যাকশনে যাবে, নাকি লোক দেখানো আশ্বাসের আড়ালে সরকারি সম্পদের বিনাশ হতে থাকবে- সেটাই এখন দেখার বিষয়।
