ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে ধুমধাম করে চলা একটি বাল্যবিবাহ পণ্ড করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে বাল্যবিবাহ আয়োজনের দায়ে অভিভাবক ও কাজীর সহকারীকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্পাসডাঙ্গা কলোনীপাড়ার বাসিন্দা কবিরের বাড়িতে শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে দামুড়হুদার ঠাকুরপুর থেকে আসা এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে ও মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। বিয়ের সব প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ, ঠিক তখনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে উপস্থিত হন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম।
তদন্তে দেখা যায়, বরের বয়স ২১ বছর হলেও কনের বয়স মাত্র ১৫ বছর। উপস্থিত প্রমাণাদির ভিত্তিতে বাল্যবিবাহের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী অপরাধ আমলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছেলে পক্ষের অভিভাবক মো. মমতাজকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা ও কার্পাসডাঙ্গার লাল মোহাম্মদের ছেলে ও স্থানীয় বিবাহ নিবন্ধক (কাজী) সামসুলের সহকারী আব্দুস সাত্তারকে বিবাহ পড়ানোর প্রস্তুতির দায়ে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বেআইনি কাজ না করার মর্মে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনায় কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মামুনসহ সঙ্গীয় ফোর্স সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। কলোনীপাড়ায় প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযানে বাল্যবিবাহ বন্ধ হওয়ায় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে, বারবার বাল্যবিবাহের চেষ্টার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় কাজী সামসুলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। আইন অমান্য করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের আয়োজন করায় এলাকাবাসী অবিলম্বে কাজী সামসুলের লাইসেন্স বাতিলের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি তুলেছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
