মমতাকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায়

আপলোড তারিখঃ 2026-05-05 ইং
মমতাকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় ছবির ক্যাপশন:

অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ার পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ইতিহাস গড়ে এই প্রথমবারের মতো রাজ্যের নীল বাড়ির মসনদে বসছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। ঐতিহাসিক জয়ের পরেই বিজেপির সদরদপ্তরে ধূতি ও পাঞ্জাবি পরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এবার বাংলা ভয়মুক্ত হলো। সহিংসতা ঠেকাতে তিনি বলেন, বদলা নয়, বদল চাই। যদিও ভোট গণনার মধ্যেই বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকারের অন্তত ১৪ জন মন্ত্রী পরাজয়ের পথে আছেন। গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মোবাইল জব্দ করে নির্বাচন কমিশন।


দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিজেপি:
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসন। সরকার গড়তে দরকার ১৪৮টি আসন। একটি আসনে ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে আগেই। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ১৯৬টি আসনে জিততে হয়। গতকাল সোমবার রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৯৩টির মধ্যে বিজেপি ২০৮টি, টানা তিনবারের বিজয়ী দল মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস ৭৯টি, কংগ্রেস দু’টি, বাম দল দু’টি এবং অন্যান্য দল দু’টি আসনে জয় পেয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২১৪টি, বাম দল একটিতে এবং অন্যান্য দল একটিতে জয় পেয়েছিল। কংগ্রেস কোনো আসনই পায়নি। সেই হিসাবে এবার বিজেপির আসন বেড়েছে ১৩১টি এবং তৃণমূলের কমেছে ১৩৫টি আসন।
ভোটের মধ্যে বিজেপি ৪৬ শতাংশ, তৃণমূল কংগ্রেস ৪১ শতাংশ, সিপিএম ৪ শতাংশ, কংগ্রেস ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য দল মিলে ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। গতকাল রাত পৌনে ৯টায় নির্বাচন কমিশন জানায়, বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হলো বিজেপি। কমিশন জানায়, এখনও পর্যন্ত ১৪৭টি আসনে জয়ী হয়েছে তারা। এগিয়ে রয়েছে ৬১টি আসনে। অন্য দিকে তৃণমূল জিতেছে ৫৫টি আসনে। ২৪টি কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তারা। উল্লেখ্য, অন্যান্য বার বেশ কয়েক দফায় নির্বাচন হলেও এবার উত্তরবঙ্গের সব আসন এবং বীরভূম, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম মিলিয়ে মোট ১৫২টি আসনে প্রথম দফায় এবং কলকাতাসহ বাকি জেলাগুলোর মোট ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন করা হয়। দু’টি দফাতেই এবার কমবেশি আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।


গণনা শেষ না হতেই সংঘর্ষ:
ভোট গণনার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘দুর্গ’ বলে পরিচিত একাধিক অঞ্চল দখল করতে চলেছে বিজেপি বলে অভিযোগ করছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থীর উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠে বিজেপি এজেন্টদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট জমা পড়ে। অন্যদিকে, কোচবিহার জেলার দিনহাটায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে জানিয়েছেন ডিআইজি অঞ্জলি সিং। এছাড়া, বাঁকুড়াতেও কাউন্টিং সেন্টার চত্বরে তৃণমূল ও বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। দুই দলই দুই দলের বিরুদ্ধে পালটাপালটি অভিযোগ করে। তবে এই নিয়ে প্রশাসনের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। ফলাফল প্রকাশের পরে যাতে ভোট পরবর্তী সহিংসতা না ছড়ায় তার জন্য ৫০০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে থাকবে বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি কর্মকর্তা মনোজকুমার আগরওয়াল। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে মনোজকুমার জানান, ৬ তারিখ পর্যন্ত মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট থাকছে। এর পরে নতুন প্রশাসনের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এদিকে ফলাফল ঘোষণার মধ্যেই বিজেপির দপ্তরে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। আর তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে দেখা যায় হতাশা। অনেককে কাঁদতে দেখা যায়।


ভয়মুক্ত হলো বাংলা : মোদি
ফলাফল ঘোষণার মধ্যেই দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে মঞ্চে ওঠেন মোদি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। নরেন্দ্র মোদি জানান, বিহারে ভোটের ফলের দিনই তিনি বলেছিলেন যে, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়। পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে ঐতিহাসিক বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গেছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হলো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলায় রাজনৈতিক সহিংসতায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এবার বদলা নয়, বদল। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেরও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ২৫ বৈশাখ অর্থাৎ আগামী ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বাংলায় বিজেপি সরকার শপথ নেবে। তিনি জানান, রবীন্দ্রনাথ যেমন ভয়মুক্ত মন এবং পরিবেশ চেয়েছিলেন, বিজেপির শাসনে বাংলায় সেই পরিবেশ তৈরি হবে।


মমতার ১৪ মন্ত্রীর হার!
এবার পরিবর্তনের ডাকেই সায় দিয়েছে বাংলার জনমত। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র গেরুয়া ঝড়। সেই ঝড়ে মন্ত্রীদের বাধা আসনও এবার হাতছাড়া হওয়ার পথে! রাজ্যের প্রায় ১৪ জন মন্ত্রী খোয়াতে পারেন নিজের কেন্দ্র। গণনার ট্রেন্ড যা বলছে, বাংলার মসনদে এবার মোদি-ম্যাজিকেই ফুটলো পদ্ম। আর সেই ম্যাজিকে কার্যত ধুলিষ্যাৎ হয়ে গেল তৃণমূলের সাজানো সাম্রাজ্য। এদিকে রাজ্যে ৬ মে শেষ হচ্ছে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট। এর পরে নতুন সরকার গঠন হবে। তার আগে গতকাল একটি বিশেষ নোটিস জারি করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। সেই নোটিসে জানানো হয়েছে, সরকারি অফিস থেকে কোনও নথি বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজ সরানো বা নষ্ট করা যাবে না। এ ব্যাপারে সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকদের জানানো হবে। যে কোনও নথি স্ক্যান করা বা প্রিন্ট করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে। কোনও নথি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও সঠিক নিয়ম মানতে হবে বলে সেই নোটিসে জানানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)