প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক খরা, নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

আপলোড তারিখঃ 2026-05-03 ইং
প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক খরা, নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিন ছবির ক্যাপশন:


গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৮ হাজারেরও বেশি শূন্য ও সৃষ্ট পদে শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে নানা জটিলতায়। সহযোগী একটি সংবাদমাধ্যমের খবর, নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, আদালতে মামলা, প্রশাসনিক জটিলতা, নিয়োগ পরীক্ষায় বিলম্ব এবং পদোন্নতিতে ধীরগতির কারণে শিক্ষক সঙ্কট তীব্র হয়ে উঠেছে। এ বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ শিক্ষার বুনিয়াদ হিসেবে পরিচিত প্রাথমিক স্তরকে প্রায় অচল করে দিচ্ছে। শিক্ষক সঙ্কটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ৬৫ হাজার ৪৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫২ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং নিয়মশৃঙ্খলা ঠিক রাখায় সমস্যা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রেও চিত্রটি উদ্বেগজনক। সেখানে প্রায় ২৪ হাজার পদ খালি। তার ওপর যুক্ত হয়েছে নতুন সৃষ্টি কয়েক হাজার পদ। দীর্ঘসূত্রতা, মামলা, নিয়োগ পরীক্ষায় বিলম্ব এবং পদোন্নতির ধীরগতিতে এই জট আরো জটিল হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও চারুকলার মতো বিষয়গুলোর শিক্ষকদের অভাব শিশুদের মেধা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার এই সঙ্কটের মূলে আছে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা আইনি এবং প্রশাসনিক জটিলতা। গত বছর জারি করা বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা। এ পদে পদোন্নতি পেতে হলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। একই সাথে মৌলিক প্রশিক্ষণ ও চাকরি স্থায়ীকরণ সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা আছে। সারা দেশে এমন কয়েক হাজার সহকারী শিক্ষক আছেন, যাদের এ অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু একটি মামলায় হাজারো যোগ্য শিক্ষক পদোন্নতিবঞ্চিত হচ্ছেন। অন্য দিকে সরাসরি নিয়োগে দেয়া যৎসামান্য পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা কয়েক লাখ। এ নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে ফল চূড়ান্ত হওয়ার পরও আড়াই মাস ধরে আটকে আছে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপ্রক্রিয়া। এতে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, কিন্তু শঙ্কা এখনো কাটেনি। শিক্ষক সঙ্কটের এ তীব্র প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ওপর। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ পরিবারের শিশুশিক্ষার্থীরা। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক শিক্ষা হলো জাতীয় শিক্ষার মূল ভিত্তি। এ ভিত্তি নড়বড়ে রেখে মাধ্যমিক বা উচ্চশিক্ষায় সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য চরম মাশুল দিতে হবে পুরো জাতিকে। একটি আধুনিক ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার 'শিক্ষক খরা' দ্রুত দূর করতে হবে। সরকারের উচিত এ সঙ্কটকে জাতীয় জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে নিরসন করা। না হয় আমাদের আগামী প্রজন্ম অপূরণীয় মেধা সঙ্কটে পড়বে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)