ছবির ক্যাপশন:
মাঠে মাঠে দুলছে পাকা সোনালি ধানের শিষ। তপ্ত রোদে ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের পর ঝিনাইদহের কৃষকদের চোখে এখন কেবলই ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্নে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। বৈশাখী আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর দুর্যোগ কৃষকের মনে তৈরি হচ্ছে অজানা আতঙ্ক। কালবৈশাখী বা শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় এখন বিনিদ্র রাত কাটছে হাজারো চাষির।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইদহে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এবার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমি, যেখানে চাষ হয়েছে ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ হেক্টর বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাঠে ফলন ভালো হলেও কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মাত্র ১৫ হাজার ৮০১ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে, যা মোট আবাদের মাত্র ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো ৮৩ শতাংশ ধান মাঠেই রয়ে গেছে। এমতাবস্থায় প্রতিকূল আবহাওয়ার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের কৃষক বাবলুর রহমান বিশ্বাস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আকাশে মেঘ জমলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। সারা বছরের খোরাকি এই ধান। যদি হঠাৎ ঝড় বা শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, তবে সব পরিশ্রম মাটি হয়ে যাবে।”
একই শঙ্কার কথা জানান বিষয়খালী এলাকার কৃষক খোকন বিশ্বাস ও মসলেম উদ্দীন। তারা বলেন, “মাঠে ধান পেকেছে, কিন্তু শ্রমিক সংকট আর আবহাওয়ার অনিশ্চয়তায় দ্রুত ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না। আকাশে মেঘের ভাজ দেখলেই মনে হয় স্বপ্ন ভঙ্গের পালা শুরু হলো কি না।” মহেশপুরের কৃষক দবির উদ্দীন বলেন, “প্রকৃতির ওপর তো আমাদের হাত নেই, এখন শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছি।”
তবে কৃষকদের এই উদ্বেগের মাঝেও আশার কথা শুনিয়েছে কৃষি বিভাগ। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এবার ধানের ফলন অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। আবহাওয়া কিছুটা মেঘলা থাকলেও আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলার জন্য বলা হচ্ছে। আশা করছি, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা তাদের ফসল নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারবেন এবং চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
