ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ১০ হাজার টাকায় আপসের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, গত ২৫ এপ্রিল ভায়না শহীদ মোশারফ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে ওই শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সহপাঠীদের সহায়তায় সে ওয়াশরুমে যায়। পরে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে কিছুটা দেরি হলে প্রধান শিক্ষিকা আসুরা খাতুন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি লাঠি দিয়ে শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত করেন। এতে শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যায়। পরে অসুস্থ অবস্থাতেই তাকে প্রায় ১০ মিনিট কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পর শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা না নিতে অনুরোধ করেন। এসময় ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষিকা আসুরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে মারধর করিনি। একটি চক্র আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।’
