ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় বাবা-মেয়ের ছদ্মবেশে ছাগল চুরির সময় জনতার হাতে আটক হয়েছেন এক চোর। পরে গণধোলাই দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তি হলেন পোড়াদাহ ইউনিয়নের চিৎলা গ্রামের লাবলু বিশ্বাস (৩০)। এসময় তার সঙ্গে ছিল তার ছোট মেয়ে, যাকে চুরির কাজে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বৈশাখের প্রখর দুপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মুহাম্মাদ হুমায়ন কবীরের মুন্সিগঞ্জ এলাকার বাড়ি থেকে ৭টি ছাগল নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। বাবা-মেয়ের স্বাভাবিক চলাফেরার আড়ালে চুরির কৌশল বুঝতে পেরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ জনতা লাবলুকে গণধোলাই দেয়। পরে মুন্সিগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে ও তার মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, লাবলু বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে ছাগল চুরির সঙ্গে জড়িত। আগে সে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একই কৌশলে চুরি করলেও সম্প্রতি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর নিজের মেয়েকেই সঙ্গে নিয়ে চুরি করে বেড়াচ্ছে।
লাবলুর মেয়েও জানায়, তার বাবা মাকে তালাক দিয়েছেন এবং এখন তাকে সঙ্গে নিয়েই বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন।
এর কয়েকদিন আগে এরশাদপুর-গোবিন্দপুর এলাকা থেকে ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের চারটি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটে। প্রায় লক্ষাধিক টাকার ওই ছাগল চুরির দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই লাবলুকে শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া প্রায় ১৫ দিন আগে মুন্সিগঞ্জ এলাকার রিয়াজ মিস্ত্রির বাড়ি থেকেও ৫টি ছাগল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক লাবলু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের ২৭ জুন আলমডাঙ্গা স্টেশন এলাকা থেকে ছাগল চুরির সময় একই কৌশলে ধরা পড়েছিল সে। সেদিনও স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইজিবাইকে পালানোর চেষ্টা করলে আসাননগর এলাকায় জনতার সন্দেহে আটক হয়।
