ছবির ক্যাপশন:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘এই সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটা শুরু করেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার এখন ছলচাতুরি শুরু করছে।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বগুড়ার সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- জামায়াতের ওপর নাকি স্বৈরাচারের আত্মা ভর করেছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপি সরকারকে আসলে কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের ভূতে ধরেছে। যে কারণে তারা সামনের দিকে এগোতে পারছে না। দেশের জনগণ আর কখনো সরকারকে কর্তৃত্ববাদী হওয়ার সুযোগ দেবে না।’
গোলাম পরওয়ার গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের জোহান ড্রিমভ্যালি পার্কে জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, জেলা সেক্রটারি আব্দুল আওয়াল, আব্দুল আলীম ও সগির আহম্মেদসহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে, আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতা বলেন, আজ যারা জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে গালি দেয়, ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির ‘গুপ্ত’ উপদেষ্টারা ছিলেন, যারা এখন সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। জনগণ জানে আসল গুপ্ত কারা।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছালেও বিএনপি ১০টি পয়েন্টে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বিরোধিতা করেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অধিকাংশ দল একমত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি এখন গণভোটের রায় বাতিল করতে চায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
ঝিনাইদহকে শহীদের রক্তে ভেজা জনপদ উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। জীবনের বিনিময়ে সেই দুঃশাসন বিলোপ করা হয়েছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের গণভোটের ম্যান্ডেট মূল্যায়ন না করলে জনগণ আবারও রাস্তায় নামবে। রাজপথে কীভাবে আন্দোলন করতে হয় তা আমাদের জানা আছে। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। সরকার নিজেরাই একটা সংকট তৈরী করে জনগনকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এদেশের কোটি কোটি ভোটার ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা ও ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে ভোট দিয়েছিল যে দেশে একটা বৈষম্যহীন, নিরাপদ, দুর্নীতিমক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন হবে। সারা দেশের মানুষ ভেবেছিল জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বে ১১ দল সরকার গঠন করবে। সারা দেশে দাড়িপাল্লার ম্লোগানে মুখরিত হয়েছিল। কিন্তু ভোট গণনার পর রেজাল্টসীট তৈরী, ভোট গণনা, প্রচার ও ফলাফল ঘোষনায় ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের রেজাল্ট ঘোষণার পর আমরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারতাম। নির্বাচন বয়কট করা, হরতাল ডাকা, অবরোধসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে দেশ আবারো অস্থির করে তুলতে পারতাম, দেশব্যাপী জনতার যে জোয়ার তৈরি হয়েছিল, সে শক্তি আমাদের ছিল। কিন্তু আমরা করিনি। আমরা জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম যে, দেশটাকে আমরা বিশৃঙ্খলাহীন, মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চাই। আমরা দেশের স্বার্থে, স্থিতিশীলতার স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে অনেক কষ্ট বুকে চেপে নিয়ে এই ফলাফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু এটা আমাদের দুর্বলতা নয়।
