ছবির ক্যাপশন:
দোষারোপ ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে বের হয়ে উন্নয়ন ও সমঝোতার রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আয়োজিত ‘কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই’ সংক্রান্ত উন্নয়ন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্লামেন্টে আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার উদ্যোগে একটি ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এ কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য রাখা হয়েছে, যাতে সম্মিলিতভাবে সংকটের সমাধান খোঁজা যায়। আমরা সঠিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকবে, কিন্তু দেশের উন্নয়নই আমাদের সবার লক্ষ্য। সেই জায়গা থেকেই আমরা একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর অঞ্চলের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সরকার ক্ষমতায় এসেই কৃষকদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। প্রায় ১১ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের আওতায় প্রথম দিনেই ৩৮ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরামের সভাপতি ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফসহ কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের বিভিন্ন সংসদ সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া জেলার উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। অন্যান্য জেলাতে যে সমস্ত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়েছে, সে সমস্ত উন্নয়ন কার্যক্রম চুয়াডাঙ্গায় এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের চুয়াডাঙ্গা জেলা এখন পর্যন্ত অবহেলিত।’
তিনি আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে যে সমস্ত জুডিশিয়াল ভবনগুলো স্থাপিত হয়েছে, সেগুলো চুয়াডাঙ্গাতে এখনো শুরু হয়নি। আমাদের চুয়াডাঙ্গায় পুরো বাংলাদেশের ৭০% বীজ-সার উৎপাদন হয়। বিভিন্ন ধরনের ফল মাল্টা, ড্রাগন, কমলা সমস্ত কিছু উৎপাদন চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে হয়। কিন্তু এখানে কোনো প্রকার কৃষি সম্প্রসারণ শাষিত ইনস্টিটিউট তৈরি হয়নি। বিভিন্ন প্রকার খাদ্যশস্য উৎপাদনে চুয়াডাঙ্গা শ্রেষ্ঠ। চুয়াডাঙ্গা ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের জন্য বিখ্যাত। গবাদিপশু পালনের জন্য বিখ্যাত। স্থল বন্দরের কাজ শুরু হলেও স্থগিত।
