ঢাবির টিএসসিতে তারুণ্যের মহোৎসব ও ঐক্যের স্পন্দনে চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীরা

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠন

বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক : প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

আপলোড তারিখঃ 2026-04-25 ইং
ঢাবির টিএসসিতে তারুণ্যের মহোৎসব ও ঐক্যের স্পন্দনে চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীরা ছবির ক্যাপশন:

রাজধানীর হৃদপিণ্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তন যেন এদিন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো চুয়াডাঙ্গায়। শিকড়ের টানে, প্রাণের স্পন্দনে আর সতীর্থদের সান্নিধ্য লাভের এক দুর্নিবার আকুলতায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত চুয়াডাঙ্গার কৃতী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক এই প্রাঙ্গণ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা পরিণত হয়েছিল আবেগ, ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মেলবন্ধনে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি সরকারের পরিবেশবান্ধব দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে নিরলসভাবে কাজ করছি। বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই আমরা কর্মতৎপরতা শুরু করেছি এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতেও আমরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের পরিবেশের মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব।’


নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করে আবেগপ্লুত কণ্ঠে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই টিএসসি আমার কাছে অত্যন্ত আবেগের জায়গা। আমি নিজেও যেহেতু এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি, তাই এটি ছিল আমাদের সব সময়ের ডাক কেন্দ্র- একটি চিরচেনা মিলনমেলা। এখানে পা রাখলেই পুরোনো দিনের অনেক স্মৃতি আর না বলা কথা মনে পড়ে যায়।’


তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, আপনারা সাহিদুজ্জামান টরিকের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে পেয়েছেন। যারা আজ তরুণ, তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে- সঠিক তথ্য-উপাত্ত, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা নিয়ে তার সান্নিধ্যে আসুন। তিনি আপনাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন। তাঁর সেই মানসিকতা এবং চিন্তা-চেতনা রয়েছে। তিনি প্রতিনিয়ত চুয়াডাঙ্গা, দেশের অর্থনীতি এবং সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে ভাবেন।’ জীবনের সফলতার মূলমন্ত্র হিসেবে তিনি দুটি বিষয়কে গুরুত্বারোপ করেন: একটি হলো পজিটিভ মানসিকতা এবং দ্বিতীয়টি কঠোর পরিশ্রম।
চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীদের এই বিশাল সমাগম দেখে প্রতিমন্ত্রী অভিভূত হন। তিনি বলেন, ‘একটি জেলার এত ছাত্র-ছাত্রী যখন একসাথে মিলিত হয়, তখন মনে হয় এটি যেন এক ঐক্যবদ্ধ চুয়াডাঙ্গা। যারা চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় নতুন আসছে, তাদের শিক্ষাব্যবস্থা, থাকা-খাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে পার্ট-টাইম জব- সবকিছুতেই এই সংগঠন ছায়া হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি চুয়াডাঙ্গার কোনো মুমূর্ষু রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে তারও অভাব হবে না, কারণ আমাদের কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই অভূতপূর্ব একতা বিদ্যমান।


অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আজ এই চুয়াডাঙ্গার যে ছেলে-মেয়েরা নিচে বসে আছো, তারা একদিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী আসনে বা বড় বড় চেয়ারে বসবে। তোমাদের মনে হতে পারে আমরা নিম্ন-মধ্যবিত্ত বা সাধারণ পরিবার থেকে এসেছি। কিন্তু মনে রেখো, আমাদের সবার অতীত একই; আমরাও একদম মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে আজ এখানে এসেছি। তাই নিজেকে কখনোই ছোট ভাবার প্রয়োজন নেই।’


তিনি আরও যোগ করেন, ÔWhatever you are, you are the best.. সবার মাঝেই ঈশ্বরপ্রদত্ত কোনো না কোনো বিশেষ গুণ থাকে। আমাদের কাজ হলো সেই গুণটিকে চিনে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।’ শিক্ষার প্রসারে বড় ধরনের ঘোষণা দিয়ে সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, দেশের যেখানেই আমাদের শিক্ষার্থীরা আছে, তাদের জন্য প্রতি বছর ৫০টি স্কলারশিপের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি স্কলারশিপ হবে ৫০০০ টাকার। যদিও আমরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি ৫০ জন, তবে আমরা চেষ্টা করব একে ১০০ বা তার উপরে নিয়ে যেতে। কিন্তু আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে নোবেল ইসলাম সূর্যকে সভাপতি এবং মাহফুজ আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। নতুন এই নেতৃত্বের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে উপস্থিত সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাচারাল গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নূর ই শাহিদ রানা, মাইক্রোম্যাক্স টেকনোলজিস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম, আর্থমুভিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুল হক, রয়েল এক্সপ্রেস প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর সামসুর রশিদ দীপু, গ্রান্ড সৈয়দ গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ আসিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আহসান হাবিব প্রমুখ।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে টিএসসি চত্বরকে অত্যন্ত নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছিল। রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন আর শিক্ষার্থীদের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতিতে এলাকাটি এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। বিকেল গড়াতেই চুয়াডাঙ্গা প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থীর কলকাকলিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে চারপাশ। আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে। নাড়ীর টানে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দেয় এক পরম আবেগঘন পরিবেশ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)