ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গার ফাতেমা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের পর দুই প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানকালে সেবায় অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমডাঙ্গার দুর্লভপুর গ্রামের মুস্তাক আহম্মেদের স্ত্রী চামেলি খাতুন গত ৭ এপ্রিল প্রসব বেদনা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিলেও পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, উপজেলার পারকুলা গ্রামের শাহিন আলীর স্ত্রী লাবনী খাতুনকে গত ১৪ এপ্রিল একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতা দেখা দিলে তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দুই পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না থাকলেও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য বিভাগ এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. আওলিয়ার রহমান ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহম্মেদ শফিউল্লাহ’র নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করা হয় এবং রোগীদের নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়। অভিযানকালে দেখা যায়, এক রোগীকে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া রক্ত দেওয়ার ঘটনায় ভোক্তা অধিকার আইনে হাসপাতালকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. মো. আওলিয়ার রহমান বলেন, ‘দুই প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক প্রসূতির ক্ষেত্রে কুষ্টিয়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্বে করা আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের ভিত্তিতে অপারেশন করা হয়। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- অপারেশনের আগে নতুন করে পরীক্ষা কেন করা হয়নি।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রোগীদের শারীরিক অবস্থা জটিল ছিল। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল। নতুন করে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর জন্য বলা হলেও তা করা হয়নি। রোগীপক্ষের অনুরোধেই অপারেশন করা হয় বলে তারা জানায়। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
