ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা অসহায় আনজিরা খাতুন দীর্ঘ তিন বছর ধরে বুকের টিউমারের তীব্র যন্ত্রণায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসার অভাবে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। ভূমিহীন আনজিরা খাতুন জানান, তাদের কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই। তার স্বামী শুকুর আলী বয়সের ভারে ন্যুব্জ, ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। সংসারে যা কিছু ছিল- হাঁস, মুরগি ও ছাগল, সব বিক্রি করে ইতোমধ্যে চিকিৎসা করিয়েছেন। এখন আর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো সামর্থ্য নেই।
তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছি। তারা জানিয়েছেন অপারেশন করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অপারেশনসহ চিকিৎসায় প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন। এত টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব না। অনেক সময় এক বেলা খেয়ে দুই বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। বুকের ভেতর যখন তীব্র ব্যথা শুরু হয়, তখন মাটিতে গড়াগড়ি করি, কখনো পানিতে বসে থাকি- যন্ত্রণা কমানোর চেষ্টা করি।’ কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আনজিরা খাতুন অত্যন্ত অসহায়। তাদের কোনো সন্তান নেই, স্বামীও কর্মক্ষম নন। মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো তার চিকিৎসা সম্ভব। বর্তমানে তিনি কোনো সরকারি সহায়তা কার্ডও পাননি এবং তার ঘরে খাবারেরও তীব্র সংকট রয়েছে। এমন মানবিক সংকটে এলাকাবাসী দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. উবাইদুর রহমান সাহেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মিস লুৎফুন নাহারসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
