আলমডাঙ্গায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

খাল খনন ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না

আপলোড তারিখঃ 2026-04-12 ইং
আলমডাঙ্গায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি ছবির ক্যাপশন:

আমরা দুর্নীতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল, গণমানুষের পাশে থাকার দল। কোনোভাবেই দুর্নীতি যেন আমাদের মধ্যে এবং প্রশাসনের মধ্যে বাংলাদেশের রন্ধে রন্ধে থাকতে না পারে, সেই পাহারাদার হিসেবে আমরা কাজ করছি এবং করব, ইনশাআল্লাহ।


গতকাল শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নের কাশিপুর-ডামোশ গ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের মোড়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


 পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পার্লামেন্ট চলছে, বিরোধীদল কথা বলছে, আমরা অর্থাৎ সরকারি দল তার উত্তর দিচ্ছে- এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। সরকারি দল ও বিরোধীদল কোনো কারণে অন্যায় দুর্নীতিকে যদি প্রশ্রয় দিই, তাহলে পার্লামেন্টে মারামারি শুরু হয়ে যাবে। এ জন্য আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে প্রতিটা বাক্য বিনিময়ে ও কাজ কর্মে।


মন্ত্রী বলেন, বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন এবং ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত এটিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যান। তিনি খাল খননে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। সকল পেশার মানুষ মিলে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন তার সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খনন শুরু করার পর সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজেই খোঁজখবর রাখতেন কীভাবে কার্যক্রম চলছে। যার কারণে খাল খনন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। যার কারণে পরবর্তীতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসতো, মানুষ চাইতো খাল খনন কর্মসূচি হোক, কিন্তু হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে এ কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১৭ বছর একটি ফ্যাসিস্ট সরকার যা থেকে বিরত থেকেছে। সেই জন্য খালের মধ্যে পলি জমে আছে, অবৈধ দখল হয়ে গেছে।


তিনি বলেন, এই খাল দেখভালের জন্য একটি ডিপার্টমেন্ট আছে। এই খালের জায়গা নিতে হলে ডিসির পারমিশন ছাড়া কারোর পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। অথচ গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে এ আইন মানা হয়নি। যে যার মতো খালের জায়গা দখলে নিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কারণ সে সময় খাল খনন কর্মসূচি চলমান ছিল। মাঝে ১৭ বছর খাল খনন ছিল না, যার ফলে রপ্তানি নেই, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। আমরা বিশ্বাস করি, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়ন হবে।


তিনি বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পর ক্ষমতায় এসেছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এর আগে আমাদের অনেক নেতা গুমের শিকার হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ ২০২৪ সালে জুলাইয়ের আন্দোলনে আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে সফল হয়েছিলাম। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন, তার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩১ দফা প্রণয়ন করেছেন। যে ৩১ দফার মধ্যে তারেক রহমান দেশের মানুষের কথা, সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। এ জন্য ৩১ দফায় তারেক রহমান বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ।


মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে নদী, খাল, জলাশয় খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করব। দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার পরিমাণ সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই দেশের অর্থনীতির চাবিকাঠি। সরকার কৃষকদের সহায়তা করতে চায়, যাতে তারা ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারেন।



তিনি বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেচব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, লিজ দেওয়া কিংবা আবাদ করার মতো অনিয়ম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। খাল খনন ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে- এই বাস্তবতা আমরা সবাই জানি। আমাদের অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষকরাই মূল ভূমিকা রাখছেন, আর আলমডাঙ্গা একটি কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত।’


তিনি বলেন, সঠিক সময়ে সেচের পানি না পাওয়া এবং খাল দখলের কারণে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এসময় তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে তীব্র গরম ও শীত-দুই ধরনের চরম আবহাওয়ার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গরমের সময় তাপমাত্রা প্রায় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়, যা কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার কৃষকদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে কৃষিকে সমৃদ্ধ করার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় ৪৫ বছর পর তাঁর উত্তরসূরি তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দেড় মাসের কর্মসূচিতে দেখা গেছে- এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন জেলায় দিন-রাত কাজ করা হচ্ছে এবং শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।


তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় এখনো তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, জেলাবাসী উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিতই থেকেছে। অথচ একসময় খাল খননের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৪৫ বছরে খাল খননের নামে প্রতি বছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ এলেও তা সঠিকভাবে কাজে লাগেনি। ফলে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা কোনো বাস্তব সুফল পাননি। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক খালই অব্যবস্থাপনায় পড়ে আছে, কোথাও কোথাও মাত্র ৫-৭ ফুট জায়গা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, নবগঙ্গা খালের ওপর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণ এবং খাল ভরাট করে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, যা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। এসব স্থাপনার কারণে ভবিষ্যতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। সবশেষে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে খাল খননসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হলে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের কৃষিখাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ ও কাজের ঠিকাদার হেমন্ত কুমার সিংহ রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।


প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ইছেরদাড়ী মোড় থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১ দশমিক ৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ মানুষ উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)