ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চুয়াডাঙ্গা সার্কিটট হাউজে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে মন্ত্রী সার্কিট হাউজে পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পরে সার্কিট হাউজে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মিলিত হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি পরিচয় পর্ব শেষে সাংগঠনিক আলোচনা করেন। তিনি দলকে আরও সুসংগঠিত করতে নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃশ্যমান এমন কিছু কাজে হাত দিয়েছেন যেটিতে আমরা সারা বাংলাদেশে আলোচনার মধ্যে আছি এবং এই কথা গুলো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দদেরকেই কাজ করতে হবে। যেহেতু আমরা সরকারের একটি দায়িত্বশীল পর্যায়ে আছি এবং দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছি। সেহেতু বিরোধী দল পার্লামেন্টে বিল পাশ করার ক্ষেত্রে তাদের কথা বলার সুযোগ বেশি থাকে। একদিকে তারা পার্লামেন্টে তাদের কথা-কাজ তুলে ধরছেই পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও তারা অনেক কাজ তারা ইতি মধ্যে হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে একই স্টাইলে তারা প্রত্যেকটি জায়গায় টু দ্যা পয়েন্টে কথা বলার চেষ্টা করছে। এটা আমাকে আপনাকে খুব বেশি বেশি চিন্তা করতে হবে। এই কারণে যে চুয়াডাঙ্গাতে আমরা ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে খুব ভালো ফলাফল নিয়ে আসতে পারিনি। বার বার আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে এই বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, এই চুয়াডাঙ্গাতে বরাবরই বিএনপির রেজাল্ট ভালো ছিল তাহলে আমাদের বুঝতে হবে এবং এর কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। ৫ তারিখের পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বার বার প্রত্যেকটা মিটিং-এ বলেছেন এবং একটি অদৃশ্য রাজনীতি প্রকৃত রাজনীতিকে আড়াল করে নিতে পারে অথবা সুযোগ তৈরি করছে। এ ধরনের ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন এবং তাই-ই হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেই ১২ই ফেব্রুয়ারির পর আপনাদের একটি মূল্যায়ন সভা করা উচিত ছিল। যিনি প্রেসিডেন্ট এবং যিনি সেক্রেটারি, তাদের নেতৃত্বেএই সংগঠনকে আবার নতুন করে দিকনির্দেশনা দিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষকে কীভাবে রাজনৈতিক ঘোরে ফিরাবেন, আপনি যদি রাজনৈতিক খোড়াকটা না দেন তাহলে তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করবে। যে সময়টা এখন পাচ্ছেন ২ বছর পর এই সময় আর পাবেন না।
তিনি বলেন, মহিলাদলের নেতৃত্বে আমাদের অ্যাক্টিভ মহিলা নেত্রী প্রত্যেক ইউনিয়ন ভিত্তিক সৃষ্টি করতে হবে। ঘরে ঘরে মহিলা কর্মী সৃষ্টি করতে হবে। যাতে কেউ আমাদের দেশের সাধারণ মহিলাদেরকে ভুল বুঝিয়ে তালিমের নামে বেহেশতের টিকিট দিতে না পারে।
ছাত্রদলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রের বন্ধু ছাত্র না, ছাত্রনেতার বন্ধুও ছাত্র না। যারা সত্যিকার অর্থেই ছাত্র, ছাত্রদল তাদের জন্য। যারা ছাত্রত্ব শেষ করেছে তাদের জন্য ছাত্রদল নয়। তারা কেউ যুবদল করবে , কেউ সেচ্ছাসেবক দল করবে কিংবা কেউ বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনে অংশ নেবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। সহজ, স্বাভাবিক এবং সাধারণ মানুষের জন্য, শিক্ষার্থীদের জন্য, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য। এটাকে কঠিন ভাবে ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই। আজকে প্রতিপক্ষ যারা অদৃশ্য শক্তি তারা বিভিন্ন অবব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে জেনারেল স্টুডেন্টদের মাঝে। আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিটা ছাত্র, তরুণ, যুবককে নিয়ে এখান থেকে সংগঠন তৈরি করতে হবে। মহিলাদের কাজ এবং এ জেনারেশনের কাজ এ দুটি বিএনপির রাজনীতিতে ভবিষ্যতের জন্য খুব বেশি বেশি প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান লিপ্টন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল হক রোকন, সিনিয়র সহসভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আজিজুর রহমান পিণ্টু, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মুকুট, আবু জাফর মণ্টু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম রতন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক তরফদার সাবু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফুন নাহার রিনা, সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শরিফ উর জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, সদস্যসচিব তবারক হোসেন চেয়ারম্যান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা, সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ শরিফুল আলম বিলাস, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব অ্যাড. মানজার আলী জোয়ার্দ্দার হেলাল, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব মাহবুবুল হক, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মো. রাজীব খান, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি শেফালী খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরিন পারভীন, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফ বিশ্বাস মিল্টু, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
