ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ এলাকার মেসার্স মনিরুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনে কয়েকদিন ধরে ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এসে ডিজেলের অভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেচনির্ভর কৃষকরা। গতকাল সোমবার সকাল সড়ে সাতটার দিকে সরোজগঞ্জ মেসার্স মনিরুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক কৃষক পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। কেউ কেউ অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, আবার অনেককে খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমানে বোরো ধানের জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে সেচ পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া ব্যহত হচ্ছে এবং ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরোজগঞ্জ এলাকার একাধিক কৃষক জানান, সারা দিন ফিলিং স্টেশনে ঘুরেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম তেল মিলছে। তাদের মতে, ‘এখন ধানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে সেচ বন্ধ হয়ে গেলে পুরো মৌসুমের কষ্ট বৃথা যেতে পারে।’
সরোজগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমার ১০ থেকে ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধান ও গরুর নিপিয়া ঘাস রয়েছে। কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় জমিতে পানি দিতে পারছি না। সময়মতো সেচ না হলে ধান শুকিয়ে যাবে। এখন ধানের অবস্থা খুব খারাপের দিকে যাচ্ছে। বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছি।’ আরও কয়েকজন কৃষক জানান, ডিজেলের অভাবে অনেকেই সেচের সময়সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে জমিতে প্রয়োজনীয় পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, অন্যদিকে অতিরিক্ত খরচও বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে অন্য এলাকা থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনে আনছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সরবরাহ এলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
