ছবির ক্যাপশন:
জ্বালানি সাশ্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব মার্কেট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার কথা থাকলেও চুয়াডাঙ্গা জেলায় তা মানা হচ্ছে না। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রয়েছে। অনেক স্থানে ক্রেতার উপস্থিতিও ছিল স্বাভাবিক দিনের মতো।
সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি সেবা—যেমন খাবারের দোকান, ওষুধের দোকানসহ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান—এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা মাইকিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবহিত করা হয়নি। ফলে অনেকেই আগের নিয়ম অনুযায়ী দোকান খোলা রেখেছেন। এছাড়া দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও কোনো নির্দেশ আসেনি। আমরা গণমাধ্যমে এ বিষয় সম্পর্কে শুনেছি, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে অবশ্যই তা মেনে চলবেন।
তবে জেলার কিছু শোরুম ও দোকান সন্ধ্যা ৬টার পরেই বন্ধ হতে দেখা গেছে, যা আংশিকভাবে নির্দেশনা বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দেয়।
চুয়াডাঙ্গা দোকান মালিক সমিতির সেক্রেটারি সুমন পারভেজ খান বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হবে—এমন কোনো নির্দেশনা আমরা তথ্য অফিস বা জেলা প্রশাসন থেকে পাইনি। আমরা স্থানীয় সরকার থেকে যেহেতু কোনো নির্দেশনা পাইনি, তাই স্বাভাবিক নিয়মেই দোকান পরিচালনা করছি। নির্দেশনা পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বেচাকেনা হয় সন্ধ্যার পর। এই গরমে সবাই বিকেল থেকে সন্ধ্যার পরেই কেনাকাটা করতে আসে। তাই আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো, দোকানগুলো যেন রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সকালে দোকান ১১টার পর খুলবো আমরা।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক-উজ-জামান বলেন, জেলা প্রশাসন ও সরকার তো আলাদা নয়। সরকার যেহেতু নির্দেশ দিয়েছে, সেটা অবশ্যই মানতে হবে। আমরা সরকারের কাছ থেকে লিখিত আদেশটি হাতে পাইনি বলেই তাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এবং আমাদের মাইকিং চলমান আছে। বেতার, টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমগুলোতেও নিয়মিত প্রচার চলছে। তারা যদি এই বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে ধারণ না করে, আমলে না নেয়, তবে আমাদের আইন প্রয়োগ ছাড়া কোনো উপায় নেই।
