ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দশমী গ্রামে এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিসার রিফাত আরা নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে এ বিয়ে বন্ধ করা হয়।
জানা গেছে, দশমী গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে (১৪) স্থানীয় আলিয়ারপুর আজিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আজ শুক্রবার তার বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরই মধ্যে বাড়িতে প্যান্ডেল তৈরি ও বিয়ের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জিয়াউর রহমান, ইউপি সদস্য হালিম হোসেন এবং গ্রাম পুলিশ লিটন দফাদার ঘটনাস্থলে যান। পরে তারা লিমার পরিবারকে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক ও আইনগত বিষয় বুঝিয়ে বলেন।
এসময় পরিবারের সদস্যরা বিয়ে বন্ধ করতে সম্মত হন এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে লিখিত অঙ্গীকার করেন। পরে বাড়িতে তৈরি করা বিয়ের প্যান্ডেলও খুলে ফেলা হয়।
কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আয়শা খাতুনের বয়স মাত্র ১৪ বছর। সে এখনও বিদ্যালয়ের ছাত্রী। আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের আগে কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা দ্রুত সেখানে যাই এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বাল্যবিয়ে বন্ধ করি। পরিবারের পক্ষ থেকেও আর বিয়ে না দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি। এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’
