ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষকেরা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চারদিনও ধর্ষকদের গ্রেপ্তার না করায় স্বজনদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ মার্চ মহেশপুর উপজেলার সামন্তা বাগদিরাইট গ্রামে। চারদিন বিষয়টি নির্যাতনের শিকার ওই স্কুলছাত্রী গোপন রাখে। গতকাল মঙ্গলবার ওই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পায়।
এই ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ওই ছাত্রীর পরিবার মহেশপুর থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ ধর্ষকদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী পাশের বাড়ি থেকে নিজের বাসায় ফিরছিল। পথের মধ্যে সামন্তা বাগদিরাইট গ্রামের রাস্তার ওপর থেকে শাওন ও হযরত আলী নামে দুই ভবঘুরে যুবক তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি ঘাস খেতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে যোগ দেয় নয়ন ও ফরিদ নামে আরও দুইজন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, একই গ্রামের হাফেজুল ইসলামের ছেলে হযরত আলী, তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন এবং দিনুর ছেলে নয়ন স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় ফরিদ হোসেনের ছেলে আমিন ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। মধ্যযুগীয় এই নির্যাতনের সময় লম্পট শাওন ও আমিন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণের পর তারা ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যার হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি জানাজানি হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।
ওই স্কুল ছাত্রী জানায়, ‘ওরা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে তিনজনে মিলে সর্বনাশ করেছে। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল, তাই ভয়ে এ ঘটনা কাউকে বলিনি। কিন্তু ওরা নিজেরা সেই ভিডিও মানুষকে দেখিয়ে আনন্দ করছে। আমি এর বিচার চাই।’ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান মঙ্গলবার রাতে জানান, গণধর্ষণের বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখে ওই পরিবার। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নজরে আসে। তিনি জানান, ফেসবুকে দেওয়ার কারণে ধর্ষকরা এলাকা থেকে গাঢাকা দিয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।’
