ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে সকাল ৬টা থেকেই লাইনে দাঁড়ায় গ্রাহকরা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফুয়েল কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও করতে হয় তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্ডের জন্য জেলার চারটি উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির। এরমধ্যে মোটরসাইকেল চালক, কৃষক ও বিভিন্ন যানবাহনের মালিক-চালক ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ছোটখাটো মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গত রোববার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, জেলার সব মোটরসাইকেল ও যানবাহন চালকদের তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করা হবে। ফুয়েল কার্ড ছাড়া কেউ তেল পাবেন না। আগামীকাল পহেলা এপ্রিল থেকে কার্ড দেখালে ফিলিং স্টেশনগুলো তেল বিতরণ করবে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ২২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তারাই ফুয়েল কার্ড দেখে তেল সরবরাহ করবে।
এদিকে, আজও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া জেলার উপজেলাগুলোর নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় (ইউএনও) থেকেও আজ থেকে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। তবে ফুয়েল কার্ড নিতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যারা গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাগজপত্র জমা দেয়ার পরও ফুয়েল কার্ড পাননি, তারা আজ সকাল ৯টা থেকে ডিসি অফিস থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান বলেন, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ শুরু হলে তেলপাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা রোধ করা যাবে। এমনকি কালোবাজির চেষ্টা যারা করছে, তাদেরও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
