ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহে জ্বালানি তেলকে ঘিরে অস্থিরতা বাড়ছে। জেলার ৩৬টি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় মোটরসাইকেল চালকদের। অভিযোগ উঠেছে, গুজব ছড়িয়ে তেল মজুদ এবং একাধিকবার তেল নেওয়ার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা ডিজেল না পেয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলাজুড়ে মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, শৈলকূপায় ৫টি, হরিণাকুণ্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জে ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি ও মহেশপুরে ৩টি স্টেশন রয়েছে। সংকটের শুরু থেকেই এসব স্টেশনে ভিড় বাড়তে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক মোটরসাইকেল চালক পরিচয় গোপন করে দিনে দুই থেকে তিনবার তেল নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ প্রয়োজন না থাকলেও অল্প অল্প করে তেল সংগ্রহ করছেন। একই সঙ্গে শহর থেকে তেল কিনে বেশি দামে গ্রামে বিক্রির ঘটনাও ঘটছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা ডিজেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। জেলায় প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ইরি আবাদ এখন হুমকির মুখে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষক সেজে ডিজেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
ঝিনাইদহ শহরের আরিফ ফিলিং স্টেশনের মালিক মারুফ আহম্মেদ বলেন, ‘বাস্তবে বড় কোনো সংকট নেই। সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। কিন্তু গুজবের কারণে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।’ তিনি জানান, একই বাইকার দিনে কয়েকবার তেল নিচ্ছেন, যা নিয়ন্ত্রণে ফুয়েল কার্ড চালুর প্রয়োজন রয়েছে।
কালীগঞ্জের এসআর আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক সাহেদ কবীর বলেন, ‘আগে যেখানে দিনে ৬০০ লিটার বিক্রি হতো, এখন চাহিদা তিনগুণ। সংকটের বড় কারণ হচ্ছে গুজব।’ তিনি বলেন, উঠতি বয়সের বাইকাররা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বেশি তেল নিচ্ছেন। ঝিনাইদহ চেম্বারের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বাইকারদের জন্য ফুয়েল কার্ড চালু করে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে তেল সরবরাহ করা যেতে পারে। পাশাপাশি তেল বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মিটার যাচাই বাধ্যতামূলক করা দরকার।
গতকাল রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিকরা গুজব প্রতিরোধ ও কঠোর বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল বলেন, ‘শহরের অনেকেই কৃষক সেজে দিনের বেলায় ডিজেল নিচ্ছেন। কৃষি কার্ড চালু করে প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, জেলায় তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক বাজার তদারকি চলছে। ইতোমধ্যে ১৭টি অভিযান চালিয়ে ১১টি পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংকট মোকাবেলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, গুজব দমন, মনিটরিং জোরদার এবং সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃত্রিম এই সংকট দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
