ছবির ক্যাপশন:
দর্শনায় পেট্রোল সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। টানা প্রায় ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পেট্রোল না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ৮টা থেকে তারা মেসার্স দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হবে। সেই আশায় রাতভর অপেক্ষা করেন শতাধিক বাইকার। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে সকাল ৯টা বাজলেও সরবরাহ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
শরিফুল নামের এক বাইকার বলেন, প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো পেট্রোল পাইনি। আমরা কি শুধু লাইনে দাঁড়িয়েই থাকব, নাকি আমাদের অন্য কোনো কাজ নেই?”
আরেক বাইকার আমির হোসেন বলেন, শুক্রবার রাত থেকেই অপেক্ষা করছি। বলা হয়েছিল সকালে তেল দেওয়া হবে। এখন সকাল ৯টা, তবুও কোনো কার্যক্রম নেই। এটি চরম অব্যবস্থাপনা।
সোবাহান নামের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সময়মতো তেল দিতে না পারলে আগে জানানো উচিত ছিল। এই হয়রানির জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষই দায়ী।
এদিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পেট্রোল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাইকাররা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানান। এতে কিছু সময়ের জন্য স্টেশন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতি মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পেট্রোল সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে শুক্রবার রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, জ্বালানি সরবরাহে এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নতুন নয়। বারবার ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালকেরা দ্রুত সমস্যার সমাধান, সঠিক তথ্য প্রদান এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
