তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সংকট

আপলোড তারিখঃ 2026-03-25 ইং
তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সংকট ছবির ক্যাপশন:

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। যার আঁচ পড়েছে বাংলাদেশেও। ঈদের আগে থেকেই তেলের সংকটের অজুহাতে নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার তেলোর পাম্পগুলোকে রেশনিং সিস্টেম চালু করে। তবে ঈদযাত্রার বিষয়টি মাথায় রেখে পরে এ পদ্ধতি থেকে সরে আসে। তাতেও কাটেনি নৈরাজ্য। বরং আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন। এতে তেলের সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে এখনো পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে। কিন্তু মানুষ বিভিন্ন উপায়ে বাড়তি তেল সংগ্রহ করে সংকট সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে সরকারের কিছু উদ্যোগ নিলেও মাঠ প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও ব্যর্থতার কারণে তা সফল হচ্ছে না। পাশাপাশি এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অবৈধভাবে তেলমজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধের অজুহাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন সেচ মৌসুমেও।


এদিকে সরকার জ্বালানি তেল গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি সরবরাহ করছে জানিয়ে দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হতে বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছে আহ্বান থাকল যে, আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। তেল আছে, আমরা তেল দিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের প্রয়োজনের বেশি তেল নেবেন না।’ তিনি বলেন, ‘স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে কিনে জনগণের স্বস্তির জন্য দাম না বাড়িয়ে আমরা তেল দিচ্ছি। সে জন্যই আমি জনগণের কাছে আহ্বান করছি যে, আপনারা প্যানিক করবেন না। আপনাদের প্রয়োজনের বেশি তেল নেবেন না।’ গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পেট্রল পাম্পে আমরা তেল সরবরাহ দিচ্ছি। এখন জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ যে কোনো সময় সারা দেশে পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে- গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা যুদ্ধকালীন অবস্থায় অনেক কিছুই হতে পারে। এটা মানুষকে আতঙ্কিত করা। তেল সরবরাহ চলছে, আপনারা তেল পাবেন।’


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দেশে এখনো জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, আরও কয়েকটি আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানিসূচিও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল কেনা হবে। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে, তবে আতঙ্কে অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল কিনছে। এতে সরবরাহব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে।


বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেল সংরক্ষণের মোট সক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। গত সোমবার পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার টন, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ। এই মজুত দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। ১ মার্চ থেকে গত রোববার পর্যন্ত দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টন। সে হিসাবে দৈনিক গড় বিক্রি প্রায় ১২ হাজার টন। দেশে অকটেনের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৬১৬ টন। বর্তমানে মজুত আছে প্রায় ১১ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। পেট্রলের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। এর মধ্যে মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা দিয়ে প্রায় ১১ দিন সরবরাহ বজায় রাখা যাবে। আর ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। জেট ফুয়েলের মজুত ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৩ দিন সরবরাহ চালানো যাবে। কেরোসিনের মজুত ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিন চাহিদা মেটানো যাবে।


মেরিন ফুয়েলের মজুত আছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা দিয়ে ৪৪ দিন সরবরাহ সম্ভব। অন্যদিকে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত আছে। দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ হাজার টন শোধনক্ষমতা বিবেচনায় এই মজুত দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। জ্বালানিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি স্বাভাবিক থাকলে এই মজুত ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট। এদিকে, গতকাল সকালেও রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পের বাইরে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোটরসাইকেল-প্রাইভেট কারের চালকদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সকাল ১০টায় রাজধানীর আসাদগেট গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার দুটি পাম্প থেকে তেল দেওয়া বন্ধ রয়েছে। পাম্পগুলো থেকে চালকদের বলা হচ্ছিল, ‘তেল নেই।’ তখন দেখা যায়, তালুকদার ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের সারি লেক রোড পর্যন্ত রয়েছে। আর সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে তেলের জন্য যানবাহনের সারি মোহাম্মদপুর টাউন হল ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে কক্সবাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মাছ ধরার প্রায় চার হাজার নৌযান সাগরে যেতে পারছে না। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহও কমে গেছে। এ ছাড়া জ্বালানি-সংকটের কারণে জেলা শহরের হোটেল-মোটেলগুলোতে জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পর্যটন নগর কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের।


উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম এবার লিটারে বাড়ল ৯০ টাকা:
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম দেশে এক মাসে দ্বিতীয়বার বাড়ল। মাসের শুরুতে লিটারে বেড়েছিল ১৭ টাকা, এবার বেড়েছে ৯০ টাকা। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করছে তারা। এই প্রথম এক মাসে দুই দফায় দাম সমন্বয় করা হলো। আর দ্বিতীয় দফায় ৮০ শতাংশ বাড়ানো হলো। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানির দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতিই দ্বিতীয়বার দর সমন্বয়ের কারণ বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)