ছবির ক্যাপশন:
মনপ্রাণ ভরে উঠছে ঈদের আনন্দ-রোশনাইয়ে। রমজানের রোজার শেষে খুশির সওগাত নিয়ে আসছে ঈদুল ফিতর। ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’-এই সুরলহরি এখন ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশ-বাতাস মন্দ্রিত করে। আজ বৃহস্পতিবার শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে ৩০ রোজা হলে ঈদ হবে এক দিন পর, শনিবার। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তা (নতুন চাঁদ) দেখে রোজা শুরু করো এবং সেটা (নতুন চাঁদ) দেখে রোজা ছেড়ে দাও।’ [সহিহ বুখারি (১৯০৯) ও সহিহ মুসলিম (১০৮১)] অর্থাৎ চাঁদ দেখে রোজা পালন করবে এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদ্যাপন করবে।’ তিনি বলেছেন, ‘চান্দ্র মাস ২৯ দিনেও হয় আবার ৩০ দিনেও হয়। যদি আকাশে মেঘ থাকায় চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে ৩০ দিনের গণনা পূর্ণ করবে।’ রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন যে, ‘সংযম সাধনার পর ঈদের দিনে রোজাদারগণ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যান।’
ঈদুল ফিতর আরবি শব্দ। ‘ঈদ’ অর্থ আনন্দ, উৎসব, খুশি। আর ফিতর অর্থ ভাঙা, চিড়, ভাঙন। ঈদুল ফিতর অর্থ হলো রোজা ভাঙার পর্ব বা উৎসব। ঈদের শাব্দিক অর্থ হলো ‘বারবার ফিরে আসা’। এ দিনটি বারবার ফিরে আসে বলে এর নামকরণ হয়েছে ঈদ। আল্লাহ তাআলা এদিনে তার বান্দাকে নিআমাত ও অনুগ্রহ দ্বারা বারবার ধন্য করে থাকেন, বারবার ইহসান করেন। ঈদ আরবি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে উৎসব, আনন্দ, খুশি। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানের অবসানে ঈদের চাঁদ দেখামাত্র ছোট-বড়, ধনী-গরিব প্রতিটি মুসলমানের হৃদয় আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে। এ দিনে ধনী-গরিব, বাদশাহ-ফকির নির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় করেন, একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। ঈদ মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উৎসব। ঈদুল ফিতরের দিনটি প্রতিটি মুসলমান নারী ও পুরুষের জীবনে তাৎপর্যে ও মহিমায় অনন্য। এক মাস সংযম সাধনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির যে প্রচেষ্টা বিশ্বাসীগণ চালান, ঈদুল ফিতর তারই পূর্ণতার সুসংবাদ। ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য হলো সিয়ামের দাবি পূর্ণ করে নতুন অবস্থায় উত্তীর্ণ হওয়ার খুশি।
আইয়্যামে জাহেলিয়া বা ইসলাম-পূর্ববর্তী যুগেও আরবে ‘নাইরোজ’ ও ‘মেহেরজান’ নামে দুটি বার্ষিক উৎসব ছিল খুব জনপ্রিয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে দেখতে পান যে, এই দুটি জাতীয় উৎসবে মদিনার আবালবৃদ্ধবনিতা নানা প্রকার স্থূল খেলা ও উৎসবে মেতে উঠেছে। মহানবী তাদের লক্ষ্যহীন আনন্দ-উৎসবের পদ্ধতির পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির পবিত্র স্পর্শমণ্ডিত এবং বহুবিধ কল্যাণধর্মী ঈদুল ফিতরের কথা ঘোষণা করলেন। তিনি বললেন, প্রত্যেক জাতির বার্ষিক আনন্দ-ফুর্তির দিন আছে। ঈদের দিন হচ্ছে আমাদের জন্য সেই আনন্দ-উৎসবের দিন। এভাবেই হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে মুসলিম সমাজে প্রবর্তিত হলো ঈদ।
ঈদ বাংলাদেশে সর্বজনীন উৎসব। ধর্মের গণ্ডি পার হয়ে ঈদ সাবলীল সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মূলত ইনসান-ই-কামিল হওয়া বা পরিপূর্ণ মনুষ্যত্ব অর্জনের মধ্যেই ঈদের সার্থকতা নিহিত। এজন্য পাড়া-প্রতিবেশী ধর্ম ও সামাজিক কাঠামোর যে শ্রেণিরই লোক হোক তাকে ঈদের আনন্দে শরিক করা কর্তব্য। একই কারণে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে যে কোনো মানুষের সঙ্গে পূর্বের শত্রুতা, বিবাদ-বিসংবাদ, মনোমালিন্য প্রভৃতি মিটিয়ে ফেলা উচিত। ঈদের খুশি উৎসবকে যেন একেবারে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় ‘আজি আরাফাত ময়দান পাতা গাঁয়ে-গাঁয়ে,/ কোলাকুলি করে বাদশাহ-ফকিরে, ভায়ে-ভায়ে’...‘আজি ইসলামী ডঙ্কা গরজে ভরিজাহান/ নাই ছোট-বড় সকল মানুষ এক সমান!...‘ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই,/ সুখ-দুঃখ সমভাগ করে নেব সকলে ভাই,/ নাই অধিকার সঞ্চয়ের...।’ এক মাস রোজার শেষে ঈদের আনন্দ প্রতিটি মানুষের মনে খুশির দ্যোতনা ছড়ালেও দরিদ্ররা কি সেই আনন্দে ভাসতে পারছে? কবির কণ্ঠে তাই ধ্বনিত হয়েছে ‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ/ মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?’ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আজ চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক:
ঈদের তারিখ নির্ধারণ ও শাওয়ালের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে (বায়তুল মোকাররম) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
