ছবির ক্যাপশন:
‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা, জীবননগর, মেহেরপুরের মুজিবনগর ও ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও অগ্নিনির্বাপণ এবং ভূমিকম্পে জরুরি উদ্ধার বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন উপজেলায় দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এর মধ্যে গতকাল সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি কোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মহড়ার আয়োজন করে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস। এ মহড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে কীভাবে নেভাতে হয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এবং মাঝারি আকারে কোথাও আগুন লাগলে ভেজা কাপড় বা বস্তার ব্যবহার সম্পর্কেও বাস্তবিক ধারণা প্রদান করেন চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এছাড়াও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
মহড়া শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব শাখা) এস.এম. আশিস মোমতাজের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ-কবলিত দেশ। এই দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য শুধুমাত্র প্রশিক্ষণই যথেষ্ট নয়। সকলের সচেতনতাই পারে এই দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে। আমরা দুর্যোগ আসলে কীভাবে মোকাবিলা করব, সেটা না ভেবে, কী করলে দুর্যোগ কম আসবে, সেই বিষয়ে ভাববো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আচরণ বদলাতে হবে। কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে, নতুবা দেশকে বাঁচানো যাবে না। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কোনো কিছুই ব্যবহার করা যাবে না। আমরা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করি। যা প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। অপ্রয়োজনে এবং অতিজরুরি না হলে ইলেক্ট্রনিক জিনিসগুলো ব্যবহার না করার চেষ্টা করতে হবে। ফ্রিজ, এসি থেকে যে সিএফসি গ্যাস বের হয়, সেটা প্রকৃতির জন্য খুবই মারাত্মক। রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহন চলে, কিছু প্রয়োজনে কিছু অপ্রয়োজনে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনেই যানবাহন বেশি ব্যবহার হয়, এগুলো থেকে যে ধোঁয়া বের হয়, সেটাও প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কিছুই ব্যবহার করা ঠিক না। আমাদের আচরণ ও সচেতনতাই এই দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের ঢাল হিসেবে কাজ করবে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা রেডক্রিসেন্টের যুব প্রধান রাকিবুল ইসলাম, প্রত্যাশার নির্বাহী পরিচালক বিল্লাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ওহিদুল ইসলাম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস রোজা। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, রেড ক্রিসেন্টের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দসহ আরও অনেকে।
এদিকে, জীবননগরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেলের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে জীবননগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তত্ত্বাবধানে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের সময় করণীয় বিষয়ে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া এবং জরুরি উদ্ধার অভিযান প্রদর্শন করা হয়। এসময় উপস্থিত জনসাধারণকে দুর্যোগের সময় কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় সে বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
অপর দিকে, মেহেরপুরের মুজিবনগরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার প্রাঙ্গণে দিবসটি পালিত হয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল হুদার নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে সরকারি শিশু পরিবারের সদস্য এবং মুজিবনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালি শেষে অগ্নিনির্বাপণ ও ভূমিকম্পের সময় করণীয় বিষয়ে মহড়া এবং জরুরি উদ্ধার অভিযান প্রদর্শন করা হয়।
মহড়া শেষে আলোচনা সভায় মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা। তিনি বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি ও সঠিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি জনসচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা দুর্যোগকালীন ঝুঁকি হ্রাস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, হরিণাকুণ্ডু ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার জামাল উদ্দীন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মাছুরা খাতুন, হরিণাকুণ্ডু প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা রিপনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পরিচালনায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে একটি বাস্তবধর্মী মহড়া প্রদর্শন করা হয়। এতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ মোকাবিলায় হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
