ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার কাকরাইল এলাকার অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আজ বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত করা হবে। পরে গ্রামের পারিবারির কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার জানান, সোমবার রাত থেকে মফিজুর রহমানের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। এদিকে, মফিজুর রহমানের মৃত্যুর পর জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জীবননগর উপজেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর জীবননগর পাইলট হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জীবননগর হাসপাতাল এলাকা ঘুরে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর। বক্তারা বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তাঁর ভাইসহ জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। ওই দিন রাতেই মফিজুরের বড় ভাই হাফিজুর রহমান মারা যান। আর মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার ১০ দিন পার হলেও হামলার সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ আসামিকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বিচার না পেলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরদিন সুটিয়া স্কুলমাঠে মেহেদী হাসানকে মারধর করা হয়। পরে জীবননগর থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ঘটনার মীমাংসার জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর হাসাদাহ বাজারে বসার কথা ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা ইসরাইল এবং পার্শ্ববর্তী বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা সুটিয়া গ্রামের সোহাগের সঙ্গে মেহেদী ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
তারা আরও জানান, এর কিছু সময় পর মাওলানা ইসরাইল ও সোহাগ হাসাদাহ ফাজিল মাদ্রাসার সামনে মেহেদীর বাড়িতে হামলা চালান। এসময় মেহেদী ও তার বাবাকে মারধর করা হয়। পরে মেহেদীর স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের ধাওয়া দিলে তারা সরে যান। কিছুক্ষণ পর আবারও সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় মফিজুর রহমানের ওপর হামলা হলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান হাফিজুর রহমান। তখন হামলাকারীরা হাফিজুর রহমানকে মারধর করে। পরে আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মফিজুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে যশোর এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রাত দুইটার দিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মেহেদী হাসান ও তাঁর বাবা জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, আহত মফিজুর রহমান মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
