ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ট্রাক্টরের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এসময় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার শিয়ালমারি পশুরহাটের নিকটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম আরিফুল ইসলাম (৪৫)। তিনি সেনেরহুদা গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে। তার বাবা বেশ কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আহতরা হলেন- সেনেরহুদা বসতিপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন (২৮) এবং আরিফুল ইসলামের বন্ধু সোহেল। আহত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে আরিফুল ইসলামসহ তার দুই বন্ধু সোহেল ও ফারুক ইফতার শেষে জীবননগর থেকে উথলীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে শিয়ালমারি পশুহাটের নিকট কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আলু বোঝাই ট্রাক্টর অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আরেকটি দ্রুতগামী আলমসাধু গাড়ি আসে। মোটরসাইকেল ট্রাক্টরের ট্রলিতে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে যায়। এতে সৌদি প্রবাসী আরিফুল ইসলামের মাথা ফেটে যায় ও ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যায়। মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুজন ছিটকে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে নেয়ার পথে আরিফুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
নিহত আরিফুলের মামা জিহাদ হোসেন বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর আগে আমার বোনের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। অনেক কষ্ট করে আমার বোন আরিফুলকে মানুষ করেছেন। আজ সেও একইভাবে মারা গেল। আমার বোন এই শোক সইতে পারবে না।’ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসিবুর রহমান বলেন, রাত ৮টার কিছু আগে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা গিয়েছিলেন। আহত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। বর্তমানে নিহত ব্যক্তির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।
