স্বামীর ঠিকানা জাল করে দুই শিক্ষকের ঝিনাইদহে বদলির অভিযোগ!

আপলোড তারিখঃ 2026-03-08 ইং
স্বামীর ঠিকানা জাল করে দুই শিক্ষকের ঝিনাইদহে বদলির অভিযোগ! ছবির ক্যাপশন:

স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা জাল করে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বদলি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ডিজি অফিসে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এই অফলাইনে বদলির আদেশ প্রাপ্ত হন ওই দুই নারী শিক্ষক। এরপর ঝিনাইদহ জেলা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই বদলি সম্পন্ন করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে জেলার শিক্ষা অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, রানী সুলতানা নামের এক সহকারী শিক্ষক হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাগআঁচড়া শহিদ মহিউদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অফলাইনে বদলি হয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কে এইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। একইভাবে উম্মে জান্নাত নিশাত নামের আরেক সহকারী শিক্ষক ভায়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে সদর উপজেলার সাধুহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই দুই শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে স্বামীর ঠিকানা হিসেবে ঝিনাইদহ শহরের একটি ঠিকানা ব্যবহার করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাদের স্বামীদের স্থায়ী ঠিকানা হরিণাকুন্ডু উপজেলায়। ঝিনাইদহ শহরে তাদের কোনো নিজস্ব জমি বা স্থায়ী বসবাসের তথ্য দিতে পারেনি জেলা শিক্ষা অফিস। ফলে স্বামীর ঠিকানার ভিত্তিতে বদলি নেওয়ার যে শর্ত রয়েছে, তা এখানে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে স্বামীর ঠিকানার ভিত্তিতে বদলি নিতে হলে সংশ্লিষ্ট স্বামীর কর্মস্থল বা স্থায়ী ঠিকানা সেই এলাকায় থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে জাল কাগজপত্র তৈরি করে বদলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


অভিযোগের তীর উঠেছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুবির কুমার ঘোষ, ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহা এবং জেলা শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাদের সহযোগিতায় জাল কাগজপত্র তৈরি করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এই দুই নারী শিক্ষকের বদলি অনুমোদন করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলার শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই সরকারি চাকরিতে বদলি বাণিজ্যের এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।


এ বিষয়ে অবসরে থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা জানান, ঢাকা থেকে তারা আদেশ নিয়ে এসেছেন। এ কারণে তারা যোগদান করাতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া হরিণাকুণ্ডু শিখ্ষা অফিসার সুপারিশসহ বদলির আদেশ পাঠিয়েছিলেন।


হরিণাকুন্ডু উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুবির কুমার ঘোষ জানান, রাজনৈতিক তদ্বীরে এই বদলি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি এটা করতে রাজি ছিলেন না। এই বদলি নিয়ম মেনে হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)