ছবির ক্যাপশন:
আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিসিআইসির বাফার সার গোডাউনে সার লোড আনলোড খরচ বৃদ্ধি ও ডিলারদের কাছ থেকে ট্রাক প্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে শ্রমিকদের কাজে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গোডাউন চত্বরে আটকে আছে সার বোঝায় অর্ধশত ট্রাক। ঠিকাদারের প্রতিনিধির এহেন খামখেয়ালিপনায় ট্রাক চালকরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সরজমিনে কালীগঞ্জ শহরতলীর বিসিআইসি বাফার গোডাউনে গিয়ে অর্ধশতাধিক সার বোঝাই ট্রাক দেখা গেছে।
কালীগঞ্জের কয়েকজন বিসিআইসি সার ডিলার অভিযোগ করেন, সপ্তাহখানিক আগেও সার নিয়ে বাফার গোডাউনে আসার সাথে সাথে সার লোড আনলোড করা হতো। কিন্তু এখন করা হচ্ছে না। ডিলারদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই লোড আনলোড খরচ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা শ্রমিকদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে। এতে খোলা আকাশের নিচে ট্রাকেই পড়ে আছে হাজার হাজার টন সরকারি সার।
শৈলকূপা উপজেলার সার ডিলার আবু জাফর বলেন, সার বোঝাই ট্রাক আটকে রেখেছে লোড আনলোড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা এটা করতে পারে না। এমনকি সার পরিবহনের ট্রাক প্রতি তারা বাড়তি টাকাও দাবি করছে। বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে জানিয়ে গত ৬ দিনেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ ডিলারদের।
যশোরের নওয়াপাড়া থেকে সার বোঝাই ট্রাক নিয়ে কালীগঞ্জের বাফার গোডাউনে আসা ট্রাক চালক মেহেদী হাসান বলেন, তিনি ৬ দিন ট্রাক নিয়ে গোডাউনের সামনে অপেক্ষায় আছেন। তিনি আরও বলেন, তার মতো অনেকেরই খাওয়া গোসলের ঠিক নেই। প্রতিদিন বসে থেকে ট্রাক প্রতি দুজন মানুষের গড়ে খরচ ৫০০/৬০০ টাকা। আমাদের বেতন অল্প, তার ওপর গাড়ি ৬ দিন আটকে আছে। আমাদের কষ্টের কথা কে বলবে?
ট্রাক চালক নজরুল ইসলাম বলেন, লোড আনলোড আটকে দিয়েছে টিকাদারের লোকজন। তারা ডিসচার্জের গাড়ি (ডিলারদের সরাসরি ভাড়াকৃত) আটকে দেয়ার চেষ্টা করছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাফার গোডাউনে এসেছি, কবে ঠিকাদাররা গাড়ি ছাড়বে জানা নেই। ঠিকাদাররা গোডাউনের সরকারি কর্মকর্তাদের কথাও শোনে না।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার জন্য বিসিআইসির বাফার গোডাউন কালীগঞ্জে অবস্থিত। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের কারণে ঝিনাইদহে ইউরিয়া, ফসফেট সহ হাজার হাজার টন সরকারি সার বাফারে না এনে অন্যখানে বিক্রি করে দিচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিলেটের শাহজালাল কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদ বলেন, সার লোড আনলোড না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমার জানামতে, কালীগঞ্জের বাফার গোডাউনে একটা ট্রাকও দাঁড়িয়ে থাকার কথা নয়।
এসময় 'বাফার গোডাউনের সামনে অসংখ্য সার বোঝাই ট্রাকে ছবি পাঠালে তিনি নিজের কথা ঘুরিয়ে বলেন, কালীগঞ্জে দেখাশোনা করে রাবেয়া এন্টারপ্রাইজ। যার মালিক শাহাজান রোমা। আমি তার সঙ্গে কথা বলে দেখছি এ বিষয়ে কি করা যায়।
এ ব্যাপারে রাবেয়া এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মাসুম পারভেজ বলেন, এখানে কোনো গাড়ি আটকানো হয়নি। গাড়ি কেন গোডাউনে দাঁড়িয়ে আছে সেটা ট্রাকের ড্রাইভার হেলপাররা বলতে পারবে। লোড আনলোড খরচ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গোডাউনে কর্মরত শ্রমিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুম পারভেজ বলেন, গোডাউনে শ্রমিকরা কাজ করছে। মাল লোড হচ্ছে।
এসব বিষয়ে গোডাউনের সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. অহিদুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। ঝিনাইদহ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বৃহস্পতিবার রাতে জানান, বিষয়টি তিনি জরুরিভাবে দেখবেন কেন সার লোড আনলোড করা হচ্ছে না।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বাফার গোডাউনে পাঠানো হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত সার বোঝাই ট্রাক আটকে আছে সেটা আমার জানা ছিল না। সরকারি গোডাউনে সরকারি সার আটকে রাখার সুযোগ নেই। খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
