ভারতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মহেশপুর সীমান্তে দুই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ

উদ্ধারের পর মানবপাচার আইনে মামলা, সমালোচনার ঝড়!

আপলোড তারিখঃ 2026-03-06 ইং
ভারতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মহেশপুর সীমান্তে দুই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে এনে দুই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চিহ্নিত চোরাকারবারি ও ধর্ষকদের বাদ দিয়ে মামলা হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মহেশপুর বাঘাডাঙ্গা সীমান্তের জিনজিরা পাড়ায় ঘটলেও ১৩ দিন পর ওই দুই নারীকে দিয়ে মহেশপুর থানায় মানবপাচারের মামলা করানো হয়েছে। মামলায় সীমান্তে চোরাচালানের গডফাদার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের সম্রাট, মোজাম্মেল ধাবক ও ঢাকার জনৈকা রেশমা খাতুনের নাম উল্লেখ করা হলেও অপর ৫ অপরাধীর নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েছে।


মানবপাচার বিরোধী সংগঠন জাস্টিজ অ্যান্ড কেয়ারের অ্যাডভোকেট প্রনালী তালুকদার জানান, ঢাকা জেলার রেশমা নামের এক নারীর সাথে ঢাকা গাজীপুরের পোশাক কারখানার কর্মরত কল্পনা খাতুনের (ছদ্মনাম) মোবাইলে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে রেশমা ভারতে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায় কল্পনাকে।


কল্পনা তার বান্ধবী ফরিদপুরের আখি খাতুনের (ছদ্মনাম) সাথে আলোচনা করে দুজন রাজি হয়ে রেশমা দেওয়া তথ্যমতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গাবতলী থেকে জীবননগরের হাসাদহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাসে থাকা অবস্থায় ০১৭৮০-২০১৩৭৮ নম্বর থেকে একজন তাদের খোঁজখবর নেয় এবং জীবননগর থানার হাসাদাহ বাসস্ট্যান্ড নামতে বলেন।


মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, বাস থেকে নামার পর ০১৯৭৯-৫১১৩১৪ নম্বর থেকে ইজিবাইক চালক রুবেল ফোন করেন এবং বাস থেকে নামার পর তাদের রিসিভ করে মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামে নিয়ে যায়। ওই দিন রাতেই ৫-৬ জন লোক তাদেরকে ভারতে পার করার উদ্দেশ্যে সীমান্তে নিয়ে যায়।


রাতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের জিনজিরা পাড়ার ইউসুফ মন্ডলের ছেলে সম্রাটের বাড়িতে একজন ও ইউসুফ ধাবকের ছেলে মোজাম্মেলের বাড়িতে আরেকজন নারীকে রাখা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের আটক রেখে পাচারচক্র দুই দলে ভাগ হয়ে পালাক্রমে দুই নারীকে ধর্ষণ করে বলে ভিকটিমরা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে আসামি বাঘাডাঙ্গা গ্রামের জিনজিরা পাড়ার সম্রাট ও মোজাম্মেল ধাবক ছাড়াও একই এলাকার চোরাকারবারি চক্রের সদস্য রুবেল, মোজাম, সামিনুর, বিপুল ও কামরুল জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।


সীমান্তের সূত্রগুলো জানায়, ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তাদের আবারও সীমান্তে নিয়ে যেতে চাইলে ওই দুই নারী ভারতে যেতে অস্বীকার করলে বিষয়টি বাঘাডাঙ্গা গ্রামে ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়ে পড়ে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাঘাডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী তাদের উদ্ধার করেন।


বাঘাডাঙ্গা বিজিবির সুবেদার মুস্তাক আহম্মেদ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে ওই দুই নারীকে উদ্ধারের কথা স্বীকার করলেও এজাহারে আসামি সম্রাটের বাড়ির সামনে সলিং রাস্তা থেকে ভিকটিমদের উদ্ধারের কথা বলা হয়। অথচ বিজিবি উদ্ধারের পর মানবপাচার বিরোধী সংগঠন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্রতিনিধি মিহদ হোসেনের কাছে ওই দুই নারী তাদের সঙ্গে কী অমানবিক আচরণ করা হয়েছিল, তার বর্ণনা দেন।
বিষয়টি নিয়ে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, ভিকটিমরা ধর্ষণের ঘটনা তাদেরকে জানিয়েছিল, কিন্তু বিষয়টি দেরি হয়ে যাওয়ার কারণে মামলার এজাহারে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ধর্ষণের কথা গোপন রেখে তারা পাচারের অভিযোগ দিয়েছে। একজন ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। মহেশপুর-৫৮ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম জানান, ভিকটিম উদ্ধারের পর তাদেরকে জান্টিস অ্যান্ড কেয়ারে কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা থানায় মামলা করে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)