ছবির ক্যাপশন:
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটি রোববার ও গতকাল সোমবার সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনাসহ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এমনকি গতকাল ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইসরাইলও গতকাল ফের তেহরানের কেন্দ্রস্থলে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে পাঁচ শতাধিক হয়েছে। এদিকে ইসরাইলের হামলায় চিকিৎসাধীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্ত্রীও মারা গেছেন। মূলত খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরাইলে হামলার মাত্রা বাড়ায়। অন্যদিকে কুয়েতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, কুয়েতের ভুল হামলায় যুদ্ধবিমানগুলো বিধ্বস্ত হয়। গতকাল পর্যন্ত ইরান অভিযানে চার জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান:
ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। এই হামলার পর সৌদি আরামকো রাস তানুরা রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ করেছে। হামলার পর স্থাপনায় আগুন লাগে। তবে আগুন সীমিত ছিল। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের এই তেল শোধানাগারটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি। কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইরানের ড্রোন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল সোমবার কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব জানিয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন মেসাইয়েদের একটি বিদ্যৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অন্য ড্রোনটি রাস লাফান শিল্পনগরীতে কাতার এনার্জির মালিকানাধীন এলএনজি সংক্রান্ত জ্বালানি স্থাপনাকে আঘাত করে। কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দোহা ছাড়াও বাহরাইন এবং দুবাইতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে এএফপি। গত তিন দিনের যুদ্ধে ইরান বাহরাইন, ইরাক (ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলসহ), জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
কুয়েতে মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত:
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকালে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের ক্রুরা অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন এবং তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, ঘটনাটির পরিস্থিতি নিয়ে তারা তাদের মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এলাকায় ধোঁয়া দেখা যাওয়ার পর কাউকে দূতাবাসে না যেতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
হামলা হয়েছে ইসরাইলেও:
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। তৈল আবিবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অফিসে হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। যদিও এই বিষয়ে ইসরাইল কিছু জানায়নি। তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অফিস ও হাইফাতে মিলিটারি সেন্টারে একযোগে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। হামলায় খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। গতকাল জেরুজালেমেও একাধিকবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।
হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল:
ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলার পরিধি বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করেছে ইসরাইল। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার নিশানায় আছে ইরান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ইসরাইলের এই ঘোষণার পরই তেহরানের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার তেহরানের রেভোলিউশন স্কোয়ারে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বহু মানুষ। ওই জায়গা লক্ষ্য করেই হামলা চালায় ইসরাইল। তবে সেই হামলা ইরানের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয় বলে আইআরজিসির দাবি।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, ইরানের পরমাণু ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল। রোববার এমনটাই দাবি করেছে তেহরান। এরপরই তেজস্ক্রিয় বিকিরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থা আইএইএ। এদিকে ইরানে গত শনিবার ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এর আগে রোববার ২৪ ঘণ্টায় ইরানে ৫৭ জন নিহত হয়েছিল বলেও জানিয়েছিল রেড ক্রিসেন্ট। অন্যদিকে, ইরানের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবারের হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৮০ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
