ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার হাসাদাহে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন হাসাদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০)। পরে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকেসহ আরও একজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর রাত ১২টার দিকে আব্দুস সালাম মাস্টার ও জসীম উদ্দিন মামলা করতে জীবননগর থানায় যান। অভিযোগ রয়েছে, এসময় থানার সামনে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা আব্দুস সালাম মাস্টারের ওপর হামলা চালান। পরে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে পুলিশ আব্দুস সালাম মাস্টার ও জসীম উদ্দিনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।
এ বিষয়ে জানতে ওসি সোলায়মান সেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা ও জীবননগর সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর বলেন, জসীম নামে একজনকে আগে থেকেই পুলিশ আটক করেছিল। আরেকজন থানায় গেলে তাকে জামায়াতের লোকজন জাপটে ধরেছিল বলে ওসি তাকে জানিয়েছেন। পরে দুজনকেই ৫৪ ধারায় চালান দেওয়া হয়। বর্তমানে দায়ের করা এজাহারে তারা দুজনই আসামি। একজন ৬ নম্বর এবং অন্যজন ৯ নম্বর আসামি।
মামলার বিষয়ে তিনি জানান, হাসাদাহের ঘটনায় সন্ধ্যার পর এজাহার দেওয়া হয়েছে। মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন। একজনের মৃত্যু হওয়ায় এটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শনিবার পূর্ব বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হন। এদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমানকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। মফিজুর রহমান বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
