ছবির ক্যাপশন:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হলো। এর আগে প্রচারণার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালান প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দেন ভোটারদের।
এর মধ্যে শেষ দিনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ সদর উপজেলায় নির্বাচনী জনসভা করেন। জেলা বিএনপির আয়োজনে গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
অপর দিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার আয়োজনে এ-টিম মাঠে নির্বাচনী জনসভা করা হয়। জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা আমির শফিউল আলম বকুল।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু গতকাল প্রচারণার শেষ দিনে দামুড়হুদায় গণমিছিল করেন। মিনি স্টেডিয়াম মাঠ থেকে চিৎলা হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে মিছিলটি। এর আগে দুপুরের পর থেকেই দামুড়হুদা উপজেলা শহরে মিছিলের নগরিতে পরিণত হয়। দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। চারদিক থেকে আসা মানুষের ঢলে পুরো দামুড়হুদা উপজেলা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। স্থানীয়দের মতে, অতীতে কখনোই দামুড়হুদায় এত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম দেখা যায়নি।
এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা আমির মো. রুহুল আমিনের শেষ নির্বাচনী গণমিছিল ও জনসভা গতকাল সোমবার বিকেলে জীবননগরে অনুষ্ঠিত হয়। জীবননগর হাইস্কুল মাঠ থেকে বের হয়ে গণমিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর জীবননগর স্টেডিয়াম মাঠে সমাবেশে পরিণত হয়। অন্যদিকে, প্রচারণার শেষ দিনে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসন। এবার এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী।
দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজিএমইএর সভাপতি, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য, আয়কর আইনজীবী রুহুল। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৩ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭০৪ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩১ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
