ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্য়ালয় চত্বরে বেলুন উড়িয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা সরকারি গ্রন্থাগারের লাইব্রেরি ইনচার্জ আবু সাঈদ মামুনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।
এসময় তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা গ্রন্থাগারে হাজার হাজার বই আছে, কিন্তু পাঠক নেই। কয়েকদিন আগে একটি মৌখিক পরীক্ষার ভাইবা বোর্ডে পরীক্ষার্থীদের আমি প্রশ্ন করি, আপনি শেষ কবে বই পড়েছেন? অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই উত্তর দিতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, হিরক রাজার দেশে সিনেমাতে বেশ সুন্দর কিছু কথা আছে, ওই কথাগুলো বর্তমান যুগের সাথে সদৃশ। সিনেমা তে বলছে, জানার কোনো শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই। তৎকালীন রাজা এই বার্তাটা দিতে চাচ্ছিলেন তার প্রজাদের। প্রজারা বেশি শিক্ষিত হলে, বেশি জানলে রাজার সব আদেশ মানবে না। একদল সচেতন নাগরিক যখন তৈরি হবে, তখন অরাজকতা তৈরি হবে না। আর সচেতন হতে গেলে বই পড়ার বিকল্প নেই। এ জন্য রাজা বলেছিলো তোমরা জেনো না।’
জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এখন প্রতিটা মানুষের কাছে মোবাইল আছে। কিন্তু তাদের যদি প্রশ্ন করা হয় পাঁচটা বইয়ের নাম বলতে। তারা পারবে না। কারণ তারা পড়েই না, পারবে কীভাবে। মোবাইলের মাধ্যমে কিন্তু বই পড়া যায়। নোবেল ইতিহাস উপন্যাস সব পাওয়া যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে। আমরা প্রতি সপ্তাহে শুধু পত্রিকা এবং বই পড়ার জন্য এতদূর হেঁটে যেতাম। আমি দেখেছি আমার সাথে যারা পড়তো, একটু খারাপ ছাত্র, তবে খুব বই পড়তো, তারা আজ অনেক ভালো জায়গাতে আছে। আমি অভিভাবকদের বলতে চাই, আপনারা আপনাদের সন্তানদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি করুন। তবেই তাদের মেধাবিকাশ আরও উন্নত হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজেরে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আদর্শ স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূর হোসেনসহ বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উপস্থিত বক্তব্য, চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগিতাসহ নানা বিষয়ে অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
